ক্ষতিপূরণ দাবি মমতার, ভুটানের জলেই এত বড় বিপর্যয়


ভাস্কর মোহান্ত, জলপাইগুড়ি

‘ভুটানের জলে এত বড় ক্ষতি হয়েছে। ওদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’ রিভার কমিশনের দাবি জানিয়ে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে এও বলেন, ‘ভুটানের জলে এত বড় ঘটনা ঘটেছে। ওদের আমরা অনেকদিন ধরে ইন্দো-ভূটান রিভার কমিশন তৈরির কথা বলেছি। বাংলাকেও সেই কমিশনের সদস্য করতে বলেছি। যাই হোক, আমাদের চাপে আগামী ১৬ তারিখ একটা বৈঠক হচ্ছে শুনলাম। আমরাও একজন অফিসারকে পাঠাব।’ শুধুই কমিশন নয়, তাদের ‘জলে হওয়ার বিপর্যয়ের’ জন্য ভুটানের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, ভুটানের জলে এত ক্ষতি হয়েছে। আমরা চাই ওরা ক্ষতিপূরণটা দিক। সবটাই তো আমাদের করতে হয়। দিল্লি তো এক পয়সা দেয় না।’
কয়েকদিনের ব্যবধানে পরপর দুর্যোগে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। পূর্বপরিকল্পিত কর্মসূচি অনুসারে উত্তরবঙ্গ সফরের দ্বিতীয় দিনে বিপর্যয় বিধ্বস্ত নাগরাকাটায় পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে একটি ত্রাণ শিবির থেকে দুর্গতদের হাতে ত্রাণ তুলে দেন তিনি। আগেই নিহতদের পরিবারের জন্য ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ও সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। রবিবার উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছিলেন, যাদের বাড়ি ভেঙেছে বা ক্ষতি হয়েছে, তাঁদের ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। নাগরাকাটার সংশ্লিষ্ট ত্রাণ শিবিরে গিয়ে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করেন মমতা। ওই এলাকায় বিপর্যয়ে নিহত ১০ জনের পরিবারের হাতে তুলে দেন হোমগার্ডের চাকরির নিয়োগপত্র। এছাড়াও দেওয়া হয়েছে ৫ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ। পাশাপাশি, তিনি বন্যাদুর্গতদের প্রতি তাঁর আশ্বাসবাণী, ‘জল একটু নামলেই বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হবে। এখানে যে লোহার সেতুটা ভেঙে গিয়েছিল, তাও মেরামত করে দেওয়া হয়েছে। যাদের কৃষিজমি নষ্ট হয়ে গিয়েছে, তাঁদেরও সরকার বিমা দেবে। এতে কৃষিজমি মালিকদের কোনও খরচ হবে না, রাজ্য সরকারই সব কাজ করিয়ে দেবে। আর যাঁদের যা কাগজপত্র হারিয়েছে ত্রাণ শিবিরে এসে জানান, সেই কাগজের একটা ডুপ্লিকেট আমরা আবার বানিয়ে দেব। কারওর ছাগল-গরু হারিয়ে গেলে, তারা সেটাও ফেরত পাবেন।’ ত্রাণ শিবির থেকে বেরনোর সময় আবার শিশু, খুদেদের হাতে একাধিক খেলনাও তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, রবিবার সকালেই এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফের বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। সোমবার দুপুর হতেই আলিপুরদুয়ারের হাসিমারার গেস্ট হাউস থেকে মুখ্যমন্ত্রী বেরিয়ে পড়েন এলাকা পরিদর্শনে। রাস্তার যতটুকু গাড়ি যেতে পেরেছে, ততটুকুই তিনি গাড়ি করে যান। তারপরই নাগরাকাটায় খারাপ রাস্তা দেখে নেমে পড়েন। হেঁটেই এলাকা ঘুরে দেখেন। সঙ্গে থাকা আধিকারিকদের নির্দেশ দেন, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এসব রাস্তা ও সেতু মেরামতির কাজ করতে হবে। এদিকে সূত্রে খবর, উত্তরবঙ্গে মোট পাঁচদিন থাকবেন মমতা। পরিদর্শন করবেন একাধিক এলাকা। করবেন পর্যালোচনা বৈঠক। দুর্গতদের হাতে তুলে দেবেন ত্রাণ।
এই প্রসঙ্গে বলে রাখা শ্রেয়, উত্তরের বন্যাকে ‘ম্যান মেড’ বলে আগেই দাবি করেন তিনি। সঙ্গে এও বলেছিলেন, ‘ভুটান, সিকিমের জলে নাগরাকাটা, ধূপগুড়ির ভয়ংকর অবস্থা। ম্যান মেড বন্যায় এতগুলো প্রাণ গেল।’


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *