দিন দর্পণ, পাটনা
এসআইআর ইস্যুতে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে একই বন্ধনীতে রেখে আক্রমণকে আরও উচ্চগ্রামে নিয়ে গেলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। বিহারে রাহুলের নেতৃত্বে হচ্ছে ‘ভোট অধিকার যাত্রা’। সোমবার সন্ধ্যায় গয়ায় পৌঁছেছে মিছিল। সোমবার ও মঙ্গলবার দু’দিনই রাহুলের কর্মসূচি ঘিরে গয়ায় ব্যাপক উন্মাদনা দেখা যায়। সেখানে রাহুল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ভোট চুরি যদি প্রমাণিত হয় তবে ইন্ডিয়া জোট ক্ষমতায় এলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার’সহ কমিশনের দুই নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নরেন্দ্র মোদিজি খালি বিশেষ প্যাকেজের কথা বলেন। তেমনই নির্বাচন কমিশন বিহারের জন্য এনেছে বিশেষ প্যাকেজ এসআইআর। এর মানে নতুন ধরনের ভোট চুরি। কমিশন আমাকে হলফনামা দিতে বলছে। অথচ দেশ দেখেছে কীভাবে ভোট চুরি হয়েছে। সময় দিন, প্রতিটি লোকসভা ও বিধানসভা আসনে এই চুরি ধরে ফেলব।’ এভাবেই রাহুল নিশানা করেছেন জ্ঞানেশ কুমারের পাশাপাশি দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশীকে। তাঁদের উদ্দেশে রাহুল আরও বলেন, ‘আজ মোদিজির সরকার আছে বলে আপনারা বিজেপির হয়ে কাজ করছেন। কিন্তু দিন আসবে, ইন্ডিয়া জোটের সরকার হবে। তখন আপনাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’
বিহারে রাহুলের এই কর্মসূচি ঘিরে বিরোধীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের যথেষ্ট উন্মাদনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তেজস্বী যাদবকে পাশে নিয়ে রাহুল একের পর এক জেলা অতিক্রম করছেন। রাহুল আরও বলেন, ‘বিহারের মানুষ বিজেপি এবং কমিশনকে এক সঙ্গে বলে দেবে যে, এই মাটিতে ভোট চুরি করা চলবে না।’
এদিকে গয়ায় রাহুলের কর্মসূচির দু’পাশে বিজেপির পতাকা দেখা যায়। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সেই পতাকাগুলি লাগানো হয়েছে বলে কংগ্রেসের অভিযোগ। তবে রাহুল তাতে পাত্তা দেননি। উল্টে গেরুয়া পতাকার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বিজেপি কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশে চুমু ছুঁড়ে দেন তিনি। এ বিষয়ে এদিন সংসদ চত্বরে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধি বঢরা বলেন, ‘এসব করে লাভ হবে না। বিজেপি কিছুতেই রাহুল গান্ধিকে আটকে রাখতে পারবে না। ভোট চুরি ইস্যুতে রাহুল গান্ধির আওয়াজ থামানো যাবে না।’
