দিন দর্পণঃ আকসা মসজিদের ভেতরে ইহুদিরা দলবদ্ধভাবে উচ্চস্বরে প্রার্থনা করছে, গান গাইছে, নাচছে এবং ইসরায়েলি পতাকা ওড়াচ্ছে। মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র স্থান আল আকসা মসজিদে এমন দৃশ্য কিছুদিন আগেও ছিল অকল্পনীয়। কিন্তু গত মাসে এসব ঘটনাই ঘটেছে।
ফিলিস্তিনি এবং বিশ্ব মুসলিমদের কাছে আল আকসা শুধু একটি মসজিদ নয়, বরং স্বাধীনতা, আত্মপরিচয় ও মুক্তির সংগ্রামের প্রতীক। অন্যদিকে ইহুদিদের বিশ্বাস, এ স্থানেই নির্মিত হবে তাদের তৃতীয় মন্দির বা ‘থার্ড টেম্পল।’
ইসলামিক ওয়াকফ-এর আন্তর্জাতিক বিষয়ক পরিচালক আউনি বাজবাজ বলেন, “যেসব ইহুদি সেখানে উপস্থিত ছিল, তাদের সংখ্যা ছিল অনেক এবং তাদের মধ্যে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন।” আউনি বাজবাজের মতে, এসব করে আল-আকসা মসজিদের ওপর ইহুদিদের সার্বভৌমত্ব জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সঙ্গে মুসলিমদের পাশাপাশি ইহুদিদেরও সেখানে প্রার্থনার অধিকার দেওয়া যাচ্ছে। যা সুষ্পষ্টভাবে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
জেরুজালেমের পুরনো শহরে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ কয়েক দশক ধরে ইসরায়েলের ফিলিস্তিন দখলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ফিলিস্তিনি এবং বিশ্বের মুসলিমদের কাছে এই মসজিদ স্বাধীনতা, আত্মপরিচয় এবং স্বাধীনতার সংগ্রামের প্রতীক। অপরদিকে ইসরায়েলিদের বিশ্বাস এখানে তাদের তৃতীয় মন্দির বা থার্ড টেম্পল নির্মাণ হবে।
দীর্ঘ সময় ধরে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী, আল-আকসায় শুধুমাত্র মুসলিমদের প্রার্থনা করার অধিকার রাখা হয়েছিল। কিন্তু ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর থেকে ইসরায়েল ধীরে ধীরে ফিলিস্তিনি ও মুসলিমদের প্রবেশে বিধিনিষেধ বাড়িয়েছে। একই সময়ে, সেখানে ইহুদিদের প্রবেশাধিকার বাড়িয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ইসরায়েলের অবৈধ বসতিগুলোতে হামলার এই চর্চা আরও বেড়েছে।
বর্তমানে বিশ্ব যখন গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা এবং সামগ্রিক আঞ্চলিক উত্তেজনার দিকে নজর রাখছে, তখন আল-আকসা মসজিদ এক নতুন মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। অনেক ফিলিস্তিনি আশঙ্কা করছেন যে, মসজিদটি তার পরিচয় হারাতে চলেছে এবং তারা যা দীর্ঘকাল ধরে ভয় পেয়েছিল, অর্থাৎ এটি তৃতীয় ইহুদি মন্দিরে পরিণত হতে চলেছে।
