কল্যাণ অধিকারী দিন দর্পণ
প্রায়বছর দুর্গাপুজোর সময় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় হাওড়া, হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায়। কিন্তু এবছর চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। জুলাই মাস থেকে একটানা বৃষ্টি হচ্ছে। জল ছেড়েই চলেছে ডিভিসি। ফলে ঘাটালে বেশ কয়েকবার বন্যা হয়েছে। আগস্ট সাসেও বদলায়নি চিত্র। কয়েকদিন ধরে দক্ষিণের বেশকিছু জেলায় হয়েই চলেছে অবিরাম বৃষ্টি। পরপরজল ছাড়ছে ডিভিসি। ইতিমধ্যে বেশকিছু জেলায় বানভাসি অবস্থা। যা নিয়ে তোপ দেগেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সামাজিক মাধ্যমে মমতা লিখেছেন, ‘ডিভিসির ‘বন্যা নিয়ন্ত্রণ’ আবারও বাংলাকে ডুবিয়ে দিয়েছে! ডিভিসি’র এবারের ব্যর্থতা শুধু অন্যান্যবারের থেকেও বেশিই নয়, অভাবনীয়’। উল্লেখ্য, এর আগেও ডিভিসি জল ছাড়ায় রাজ্যে ফি বছর বন্যা হয়েছে। বন্যার জন্য জল ছাড়াকেই দায়ী করেছেন মমতা। ম্যান মেড বন্যা, ষড়যন্ত্রের বন্যা বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এ দিন মমতা অভিযোগের ন্যায় লিখেছেন, ‘২০২৪ সালের তুলনায় ১১ গুণ বেড়েছে ডিভিসি’র জল ছাড়ার পরিমাণ। ২০২৩ সালের তুলনায় ৩০ গুণ বেশি। দক্ষিণবঙ্গে বন্যা ঘটানোর জন্য এটি একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। এটি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বাংলাকে বিপদে ফেলার জন্য এটা আরো বেশি-বেশি করে ঘটাতে থাকা ম্যান মেড বিপর্যয়’।
ক’দিনের টানা বর্ষণে শনিবার ডিভিসি জল ছেড়েছে ৬০ হাজার, রবিবার ৫৫ হাজার, মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করার দিন অর্থাৎ সোমবার ডিভিসি জল ছেড়েছে ৬০ হাজার কিউসেক। আর ডিভিসি জল ছাড়ার পরেই বন্যা পরিস্থিতি পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার একাধিক এলাকায়। পরিস্থিতি যা, যে পরিমাণ জল ছেড়েছে মঙ্গলবার রাত থেকে এসে পৌঁছাতে শুরু করবে উদয়নারায়ণপুর, আমতায়। এমনিতেই বর্ষার জলে ভরে রয়েছে দামোদর নদ। তার উপর ডিভিসির ছাড়া জল এসে পৌঁছালে পরিস্থিতি অন্যরকম হবার আশঙ্কা করছেন সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা। নদীবাঁধ ও নদীর গতি প্রকৃতি নজরে রাখছেন। সমস্ত খবর পাঠানো হচ্ছে নবান্নে এমনটাই সূত্রের খবর। জানা যাচ্ছে, রাজ্যের একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতি। ভেলায় চাপিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দেহ সেই ছবি ভাইরাল হয়েছে। আগামী কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে ভয় ধরাচ্ছে পরিস্থিতি।
