রাজ্যের জয়, ওবিসি মামলায় হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের


দিন দর্পণ, 28 জুলাইঃ ওবিসি মামলায় শীর্ষ আদালতে বড় জয় পেল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সোমবার প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের বেঞ্চ এই মামলায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে। সেই সঙ্গে  মামলাটি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের ভূমিকায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি বা উল্লেখ্য ওবিসি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা রয়েছে। একটা সময় বিষয়টি গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে। বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় এই শংসাপত্রের সুবিধা যাঁদের পাওয়ার কথা তা থমকে গিয়েছিল। এরপর রাজ্য সরকার চাকরিতে নিয়োগ বা কলেজে ভর্তির জন্য ওবিসি শংসাপত্রকে অনুমোদন দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। কিন্তু রাজ্য সরকারের সেই বিজ্ঞপ্তির উপর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার বেঞ্চ ৩১ জুলাই পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দেয়। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য সরকার। সোমবার মামলাটির শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই, বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রন এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ। এদিন শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধান বিচারপতি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “প্রশাসনিক কোনও একটি সিদ্ধান্তে কীভাবে কলকাতা হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিতে পারে? আমরা এ বিষয়ে নোটিস জারি করব। এটা আশ্চর্যজনক। আমরা ভেবে অবাক হচ্ছি যে, কোন যুক্তিতে  হাই কোর্ট এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে!”

সেই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের রায়ের উপর স্থগিতাদেশ জারি করে মামলাটি আবার হাইকোর্টেই পাঠিয়ে দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ, এই মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নতুন বেঞ্চ গঠন করতে হবে। সেই নতুন বেঞ্চ আগামী ৬-৮ সপ্তাহের মধ্যে মামলাটির শুনানি শেষ করবে। 

গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে এই মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রধান বিচারপতির এজলাস না বসায় তখন শুনানি হয়নি। এই পরিস্থিতিতে সোমবার মামলাটির শুনানি হল। এদিন শুনানিতে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ বলে, সংরক্ষণ সব সময় প্রশাসনিক বিভাগের কাজের অংশ। এ প্রসঙ্গে অতীতের ইন্দিরা সাহনী মামলার রায়ের কথা উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই বলেন, “প্রশাসন এমন নির্দেশ দিতেই পারে। তার জন্য আলাদা করে কোনও আইন তৈরির প্রয়োজন নেই”। সেই সূত্রে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে প্রাথমিকভাবে ভুল বলে এদিন মৌখিকভাবে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ। এরপরই প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বলে, “এ বিষয়ে হাইকোর্ট চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বিতর্কিত এই নির্দেশের উপর আপাতত অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি থাকবে।” বলাবাহুল্য সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশে অসম্ভব স্বস্তি পেল রাজ্য সরকার।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *