মমতার চাপে নতিস্বীকার/৩০ বাঙালি পরিযায়ীকে মুক্তি দিল হরিয়ানা সরকার


দিন দর্পণ, 26 জুলাইঃ বাংলাদেশি সন্দেহে ৩০ জন বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিককে আটক করেছিল হরিয়ানা সরকার। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও শুধু বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে সন্দেহের বশে ৩০ জন বাঙালি পরিয়ায়ী শ্রমিককে আটক করে জেলবন্দী করে রেখেছিল হরিয়ানা সরকার। শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাপে পড়ে নতিস্বীকার করল হরিয়ানা সরকার। গত দু’দিনে হরিয়ানা সরকার ৩০ জন বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিককে মুক্তি দিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে ‘বাংলাদেশি’ বলে সন্দেহ করে বাংলার শ্রমিকদের ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে রেখেছিল হরিয়ানা সরকার। ওইসব পরিযায়ী শ্রমিকদের নাগরিকত্বের নথি চেয়ে হরিয়ানা থেকে রাজ্য পুলিশের কাছে চিঠিও পাঠানো হয়েছিল। তা নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় প্রতিবাদী পোস্ট করেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলাভাষী শ্রমিকদের উপর এমন ‘অত্যাচার’ বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। লাগাতার এনিয়ে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিকে কার্যত তুলোধোনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সেই চাপের মুখেই এবার কার্যত নতি স্বীকার করল হরিয়ানা সরকার। সেখানকার ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে থাকা ৩০ জন, যাঁদের নাগরিকত্বের প্রমাণ চাওয়া হয়েছিল, তাঁদের এবার মুক্তি দেওয়া হল। তাঁরা গুরুগ্রাম থেকে শিগগিরই মালদায় তাঁদের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হবেন বলে জানা যাচ্ছে।

বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলা ভাষী এবং বাঙালিদের উপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে সরব তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বাংলায় কথা বললেই ‘বাংলাদেশি’ বলে দেগে দিয়ে নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। স্রেফ সন্দেহের বশে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে ডিটেনশন ক্যাম্পে। এখানেই শেষ নয়, তাঁরা আদৌ বাংলার বাসিন্দা কিনা, তা জানতে নথিও চাওয়া হচ্ছে রাজ্য সরকারের কাছে।

সম্প্রতি এমন সাতজন বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিককে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে গ্রেফতার করেছিল হরিয়ানা পুলিশ। তাঁদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ থেকেই কর্মসূত্রে হরিয়ানা গিয়েছিলেন তাঁরা। হরিয়ানা পুলিশ তাদের আটক করে ডিটেনশন ক্যাম্পে রেখে দেয়। অভিযোগ, সেখানে অত্যাচারেরও শিকার হয়েছেন তাঁরা। ধৃতদের পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ জোর করে আটকে রেখে দিচ্ছে শ্রমিকদের। দেওয়া হচ্ছে না খাবার, শুনছে না কোনও কথা। এমনকি বৈধ নথিপত্র দেখানোর পরও তাঁদের ছাড়া হচ্ছে না। মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর রাঙ্গাইপুর ঠাকুরটোলা এলাকার বাসিন্দা আজমল হোসেন, লোকমান আলি, উসমান আলি, মানিরুল ইসলাম, সাদিকুল ইসলাম, পসেন দাস ও অভিজিৎ দাস দীর্ঘদিন ধরে হরিয়ানার গুরগাঁও এলাকায় নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড থাকলেও, শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য তাঁদের বাংলাদেশি বলে সন্দেহ করে পুলিশ।

পরিবারের দাবি, এঁরা প্রত্যেকেই ভারতীয় নাগরিক। শুধু পেটের দায়ে ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়েছিলেন। তাঁদের মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছে গোটা গ্রাম।

ধৃতদের মধ্যে একজনের এক বৃদ্ধ মা সংবাদমাধ্যমের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন। বলেন, ‘কাজ না করলে খাব কী? ছেলে কাজ করতে গিয়েছিল। আজ শুনছি বাংলাদেশি সন্দেহে ধরেছে। এমন অত্যাচার কেন?’


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *