দিন দর্পণ, ১৬এপ্রিল, কলকাতাঃ বুধবার সকালে অফিস টাইমে অবরোধ দক্ষিণ শাখায়।লোকাল ট্রেনে মহিলা কামরা বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিত্যযাত্রীদের পুরুষেরা।দক্ষিণ বারাসত, মথুরাপুর রোড, শাসন রোড, গোচরণ ও জয়নগর স্টেশনে অবরোধ করেন নিত্যযাত্রীদের একাংশ।লক্ষ্মীকান্তপুর নামখানা শাখায় স্টেশনে স্টেশনে আটকে রইল ট্রেন।অবরোধের জেরে তীব্র ভোগান্তিতে পড়েন কলকাতামুখী যাত্রীরা।প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর ওঠে অবরোধ।নিত্যযাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেনে কামরার সংখ্যা না বাড়িয়ে জেনারেল কামরাকে মহিলা কামরা করা হয়েছে।এছাড়াও দীর্ঘ সময় অন্তর ট্রেন চলাচল করে।দুটি ট্রেনের মধ্যে ব্যবধান অনেক বলে অভিযোগ তাঁদের।প্রতিবাদে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার লক্ষ্মীকান্তপুর শাখায় ট্রেন অবরোধ করে বুধবার সকাল থেকেই বিক্ষোভ দেখান নিত্যযাত্রীরা।তাদের আরও দাবি, জেনারেল কামরাকে মহিলা কামরা করা যাবে না।পাশাপাশি এই শাখায় ট্রেনের সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে।
গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে যাত্রীদের দাবি মেনে লোকাল ট্রেনের বগি সংখ্যা ৯ থেকে ১২ করা হয়েছে।এর মধ্যে মহিলা কামরা ২টি ও ভেন্ডার ২টি।সাধারণ কামরা এতদিন ছিল ৮টি।সম্প্রতি লোকাল ট্রেনের আরও একটি কামরাতে মহিলা কামরা করার জেরে সাধারণ কামরার সংখ্যা কমে সেই সাতে দাঁড়িয়েছে।নিত্যযাত্রীদের কথায়, তাহলে ৯ থেকে ১২টি কামরা করে কী লাভ হল? সমস্যা তো যে তিমিরে ছিল তাতেই রয়ে গেল।
মহিলা কামরা বৃদ্ধি নিয়ে রেলের দাবি, প্রতিদিন প্রায় ১৮ লক্ষ যাত্রীর মধ্যে ২৫ শতাংশ মহিলা।জেলা ও শহরতলি থেকে কলকাতায় কর্মসংস্থানে আসেন প্রচুর মহিলা।অফিস টাইমে মাত্র ২টি মহিলা কামরায় উপচে পড়ে ভিড়।ফলে মহিলাদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা ভেবে কামরা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল।যদিও বাকি যাত্রীদের অসন্তোষ চরমে পৌঁছাতে এদিন লক্ষ্মীকান্তপুর শাখার বিভিন্ন স্টেশনে অবরোধ করলেন তারা।লেডিস কামরা বাড়ানোর ফলে সাধারণ কামরায় চাপ বেড়েছে।সেখানে তিল ধারণের জায়গা নেই।অথচ লেডিস কামরা ফাঁকা থাকছে।তাঁদের দাবি, যদি মহিলা কামরা বাড়াতেই হয়, তাহলে রেল নতুন কামরা যোগ করুক।জেনারেল কামরাকে লেডিস কামরা করা যাবে না।ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রেল পুলিশ ও জয়নগর থানার পুলিশ।তাদের হস্তক্ষেপে প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে অবরোধ ওঠে।
