২৬ হাজার চাকরি বাতিলে পড়ুয়াদের ভবিষ্যত কী!


দিন দর্পণ, ৩এপ্রিলঃ ২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেল বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্ট।এর প্রভাব শিক্ষকদের পাশাপাশি পড়ুয়াদের উপরেও পড়েছে তা বলার বাকি রাখে না।কোথাও ৫০ শতাংশ আবার কোথাও ৫৬ শতাংশ শিক্ষক চাকরি হারিয়েছেন।অনেক স্কুলই শিক্ষকহীন হয়ে পড়েছে।স্কুল গুলির স্বাভাবিক পঠনপাঠনও বন্ধ হয়ে পড়বে বলেই আশঙ্কা।উদ্বিগ্ন প্রকাশ করেছে অভিভাবকরা।তাদের সকলের মধ্যে বেশ কয়েকটা প্রশ্ন সকল মানুষের মনে।কারা স্কুলে থাকবেন? কারা পড়াবেন? স্কুলের অন্যান্য কাজকর্মই কীভাবে চলবে? ২০১৬ সালের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যে সমস্ত স্কুলে নিয়োগ প্রক্রিয়া হয়েছিল সেসমস্ত স্কুলে এই প্রশ্নগুলো যেন আরোও বেশি প্রভাব ফেলছে।

সারা বছরই পরীক্ষা, মূল্যায়ণ, ফলাফল বাংলার শিক্ষা পোর্টালে তোলা।দিনের পর দিন কাজের চাপ বাড়ছে।এই অবস্থায় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী বাড়ন্ত হলে সব কাজ ঠিকঠাক সময়মতো করে ওঠা যাবে কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষ।তাদের মতে, এই ঘাটতি দ্রুত পূরণের আশা কম।কারণ পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটাই মামলা মোকদ্দমার জালে জড়িয়ে।এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা অর্জুনপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ঘটনা।এখানে ৬৫ জন শিক্ষকের মধ্যে ৩৫ জনেরই চাকরি বাতিল হয়ে গিয়েছে বৃহস্পতিবার, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে।বাতিল হয়েছে চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষাকর্মীর চাকরিও।৯৫০০ ছাত্রছাত্রীর ভরসা এখন স্রেফ ৩০ জন শিক্ষক, ৭ জন প্যারাটিচার।ফরাক্কার অন্তত তিনটে স্কুলের পরিস্থিতি এমনই।

নিউ ফরাক্কা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৩৪ জন শিক্ষক ছিলেন।তার মধ্যে বৃহস্পতিবার ‘সুপ্রিম’ রায়ে চাকরি গিয়েছে ১১ জনের।তার চেয়েও বড় তথ্য, এই স্কুলের উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৩ জন শিক্ষক ছিলেন।একজন এডুকেশন, একজন দর্শন ও আরেকজন আরবি।শীর্ষ আদালত ২৬ হাজার শিক্ষকের প্যানেল বাতিল করায় চাকরি গেল তাঁদের দু’জনেরই।চাকরি বহাল থাকছে একমাত্র আরবি শিক্ষকের।ফলে এই স্কুলে এবার থেকে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি কীভাবে চলবে, তা ভেবে মাথায় হাত স্কুল কর্তৃপক্ষের।এসব স্কুলে পড়াশোনার অদূর ভবিষ্যত অন্ধকারে, তা বলাই বাহুল্য।তবে ‘সুপ্রিম’ রায়ে একটি ছাড়ও দেওয়া হয়েছে।আগামী তিনমাসের মধ্যে নতুন করে পরীক্ষার ব্যবস্থা, প্যানেল তৈরি করে শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *