দিন দর্পণ, কলকাতাঃ কলকাতায় তৈরি হতে চলেছে আরও একটি সরকারি সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল।কিন্তু, এই হাসপাতলে কোনও মানুষেরই চিকিৎসা হবে না!এই হাসপাতালে চিকিৎসা হবে শুধুমাত্র পশুপাখিদের।আমাদের রাজ্যে এই প্রথম সরকারি সুপারস্পেশালিটি পশু হাসপাতাল পেতে চলেছে।একইসঙ্গে, এটি হতে চলেছে রাজ্যের সপ্তম সরকারি পশু হাসপাতাল।
নয়া হাসপাতালে থাকবে একটি ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট এবং এক্স-রে, বিভিন্ন ধরনের রক্তপরীক্ষা, সাধারণ টিকাকরণ ও অন্যান্য সমস্ত জরুরি পরিষেবা প্রদানের ব্যবস্থা।অত্যাধুনিক এই হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে নিউ টাউনে।সেখানে একটি অপারেশন থিয়েটার থাকবে।যেখানে পশুপাখিদের বিভিন্ন ধরনের জটিল অস্ত্রোপচার করার ব্যবস্থা থাকবে।বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি একটি বৈঠক করে নিউ টাউন কলকাতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনকেডিএ)।ইকো পার্কের কাছেই পাঁচতলা একটি ভবন নির্মাণ করা হবে এবং সেই ভবনেই এই নয়া হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে।যৌথভাবে এই হাসপাতাল পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে রাজ্য পশু সম্পদ উন্নয়ন দফতর।
পরিকল্পনা করা হয়েছে, এই হাসপাতাল তৈরি করবে এনকেডিএ।তারাই মূলত এটি পরিচালনা করবে। অন্যদিকে, রাজ্য পশু সম্পদ উন্নয়ন দফতর নয়া এই হাসপাতালের পরিকাঠামো গড়ে তুলবে এবং বিশেষজ্ঞ পশু চিকিৎসকদের সেখানে নিয়োগ করার ব্যবস্থা করবে।এনকেডিএ সূত্রে খবর, এই হাসপাতালে কেবলমাত্র গৃহপালিত কুকুর বা পোষ্য বিড়ালের চিকিৎসাই করা হবে না।সেইসঙ্গে সমস্ত ধরনের পশুপাখি – যেমন – গরু, ছাগল, হাঁস, মরগী প্রভৃতিরও চিকিৎসা করা হবে।এর ফলে শহর কলকাতার পাশাপাশি আশপাশের অন্তত পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েতের মানুষও উপকৃত হবে।
এনকেডিএ-এর এক আধিকারিক এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘যদি সবকিছু ঠিকঠাক এগোয়, তাহলে আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই এই নয়া পশু হাসপাতাল চালু হয়ে যাবে।সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ এই প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘ইতিমধ্যেই আমাদের দফতর ও এনকেডিএ-র মধ্য়ে একটি মউ স্বাক্ষর করা হয়েছে।নিউ টাউনে আমাদের দফতর ওই সুপারস্পেশালিটি পশু হাসপাতাল চালাবে।এই কাজে খরচ করার জন্য আমরা পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের কাছে ১৫ কোটি টাকা চেয়েছি।যে মুহূর্তে সেই টাকা বরাদ্দ করা হয়ে যাবে, আমরাও টেন্ডারের কাজ শুরু করে দেব। যাতে দ্রুত হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু করা যায়।’
