আমিন আমিন ধ্বনিতে,মুখরিত ফুরফুরা শরিফ


মিজানুর রহমান, দিন দর্পণঃ লাখো লাখো মানুষের কান্নাভেজা চোখে আল্লাহ আল্লাহ এবং আমীন আমীন কণ্ঠধ্বনীর মধ্যে দিয়ে রবিবার সকালে শেষ হল ফুরফুরা শরীফের ঐতিহাসিক ইসালে সওয়াব মাহফিল।এদিন পীর দাদা হুজুর (রহ.) প্রতিষ্ঠিত প্রধান দরবার শরীফ থেকে শুরু করে ফুরফুরা দরবার শরীফের নতুন বাড়িতে আখেরি দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।নতুন বাড়িতে আখেরি মোনাজাত করেন ফুরফুরা দরবার শরীফের মুখ্য নির্দেশক পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকী।বাংলা তথা দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যাতে বজায় থাকে সেজন্য আল্লাহ রাব্বুল আল আমীনের দরবারে দোয়া করা হয় এদিন।

এদিন ফজর নামায বাদ দরবারের দিকে মুখ করে ঘুরে বসা এবং নিজেদের আত্মশুদ্ধিকরণের জন্য উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা কিছুক্ষণ নিজেদের আল্লাহর পথে বিলিয়ে দিয়েছিলেন।ফাঁকা আকাশের নীচে জেকের-এর আল্লাহ আল্লাহ শধ  এক অভূতপূর্ব পরিবেশ তৈরি করেছিল।মোজাদ্দেদে জামান পীর দাদা হুজুরের অমূল্য বাণীমালা শোনানো হয় মাহফিল থেকে।সমস্ত নবী, রসুল, ওলি, আউলিয়া থেকে শুরু করে সকল মানব কল্যাণের জন্য দোয়া চাওয়া হয়।এদিন ফুরফুরার প্রধান রাস্তা থেকে শুরু করে অলিগলিতে মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।মাহফিলে তিন দিন ধরে ৩০ লক্ষ মানুষের ভিড় হয়েছিল বলে দাবি করেছেন পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকী।এর মধ্যে ইসালে সওয়াবের শেষ দিন ছিল রেকর্ড পরিমাণ ভিড়।এদিন অন্ততপক্ষে ১৫ থেকে ১৮ লক্ষ মানুষ ফুরফুরা ইসালে সওয়াবে সামিল হয়েছিলেন।কারণ সকলেই জানতেন এদিন ছিল ইসালে সওয়াবের শেষ দিন।বিশ্বকল্যাণের জন্য এদিনই আখেরি মোনাজাত করবেন পীরজাদারা।সেই মোনাজাতে সামিল হতেই এদিন কাতারে কাতারে মানুষ ভিড় জমান ফুরফুরায়।

এদিন ফজরের নামায বাদ উপস্থিত মেহমানদের উদ্দেশে একাধিক উপদেশ দেন পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকী। প্রত্যেকেই যেন পাঁচ ওয়াক্ত নামায জামাআতের সঙ্গে আদায় করেন, রমযান মাসে রোযা পালন করেন, হালাল পথে আয় করেন এছাড়া একাধিক পরামর্শ দেন।এর পর হুজুর নিজে সকলকে জেকের পাঠ করান।সেই সময়ই লাখো লাখো মানুষের কন্ঠে আল্লাহ আল্লাহ শধে মুখরিত হয়েছিল ফুরফুরার আকাশ-বাতাস।এর পর বিশ্বকল্যাণ কামনায় আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকী।ফিলিস্তিন সহ বিশ্বের যেসব প্রান্তে মানুষ অত্যাচারিত সকলের জন্য দোয়া করা হয়।পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতে যাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থাকে সেজন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।একই সঙ্গে যাতে হিন্দু, মুসলমান, শিখ, ঈশাই, জৈন, পারসি সব ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায়ের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে বসবাস করতে পারেন সেজন্যও দোয়া করা হয়।ফুরফুরা শরীফের ইসালে সওয়াবে ভিড় জমান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও।এবছরের তিনদিনের ইসালে সওয়াবের মাহফিলে এসেছিলেন, শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধায়ক সুদীপ্ত রায়, বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়, বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ, আমতার বিধায়ক সুকান্ত পাল, ডোমজুড়ের প্রাক্তন বিধায়ক রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়’সহ বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ।প্রত্যেকেই পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকীর সঙ্গে সাক্ষাত করে দোয়া-আশীর্বাদ নেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *