দিন দর্পণ, ১১ মার্চঃ দিন দিন খারাপ হচ্ছে বাতাসের গুণমান।বাতাসে মিশছে বিষ।দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন শহরে বুক ভরে বিশুদ্ধ বাতাস নেওয়া এখন দুষ্কর।কারণ, বিশ্বের সব থেকে দূষিত ২০টি শহরের মধ্যে ১৩টিই ভারতে।এখনও বিশ্বের সব থেকে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে আছে দিল্লি।এই তালিকায় রয়েছে অসমের একটি শহরও।বাতাসের মান মাপক সংস্থা আইকিউএয়ারের হিসাব অনুসারে গত বছর বিশ্বের দূষিততম দেশগুলির তালিকায় ভারত ছিল পঞ্চম স্থানে।সদ্যপ্রকাশিত রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, দূষিততম ২৫টি শহরগুলির মধ্যে ১৫টিই এদেশে।দিল্লি থেকে শুরু করে ফরিদাবাদ, মুজঃফরনগর, নয়ডার মতো শহরগুলি রয়েছে এই তালিকায়।দূষিত শহরের তালিকায় একমাত্র রাজধানী হিসাবে রয়েছে দিল্লি।বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর অসমের বার্নিহাট।
প্রসঙ্গত, বায়ুদূষণের কারণে ভারতে প্রচুর শারীরিক সমস্যা দেখা যায়।তার কারণে দেশবাসীর আয়ু গড়ে ৫.২ বছর কমছে।এহেন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে আইকিউএয়ার রিপোর্ট।যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্যমন্ত্রকের উপদেষ্টা তথা প্রাক্তন বিজ্ঞানী সৌম্যা স্বামীনাথনের মতে, দূষণের তথ্য সংগ্রহে অনেক উন্নতি করেছে ভারত।কিন্তু সেই তথ্যের ভিত্তিতে দূষণ রোধের পদক্ষেপ হচ্ছে না পর্যাপ্তভাবে।
কী কারণে ভারতে বাতাসের মান এত খারাপ হচ্ছে তার কারণগুলি তুলে ধরা হয়েছে।প্রসঙ্গত, গত বছরে ভারতে বাতাসে পিএম২.৫-এর ঘনত্ব ৭ শতাংশ কমেছে।২০২৩ সালে এর পরিমাণ প্রতি কিউবিক মিটারে ছিল ৫৪.৪ মাইক্রোগ্রাম।এখন এই পরিমাণ ৫০.৬ মাইকোগ্রাম।তবে দিল্লিতে এই পরিমাণ প্রতি কিউবিকমিটারে ৯১.৬ মাইক্রোগ্রাম।এই কারণেই দিল্লির বাতাসের দূষণের পরিমাণ সব থেকে বেশি।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুসারে, প্রতি কিউবিক মিটারে পিএম ২.৫-এর পরিমাণ ৫ মাইক্রোগ্রাম হওয়া উচিত।কিন্তু ভারতের প্রায় ৩৫ শতাংশ শহরেই এই মান তার ১০ গুনের বেশি।এর ফলে ভারতীয়দের গড় আয়ু ৫.২ বছর কমে যাচ্ছে।এই সঙ্গে ভারতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি মারাত্মাক হারে বাড়ছে।
শুধুমাত্র বাতাসের দূষণের কাছে ভারতে প্রতি বছর প্রায় ১.৫ মিলিয়ন মানুষ মারা যান বলেও একটি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাক্তন বিজ্ঞানী সৌমা স্বামীনাথন।তাঁর মতে, ভারত বাতাসের মানের তথ্য সংগ্রহে অগ্রগতি করেছে কিন্তু পর্যাপ্ত পদক্ষেপের অভাব রয়েছে।এখন স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে দূষণ কমানোর দিকে নজর দিয়ে জরুরী ভিত্তিতে কাজ করার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
