দিন দর্পণ, কলকাতাঃ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে চালু হয়েছিল ‘মা ক্যান্টিন’ যেখানে দুপুরবেলায় মাত্র ৫ টাকায় ভাত, ডাল ও ডিমের ঝোল দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছেএই ক্যান্টিন জনপ্রিয় হতে বিশেষ সময় লাগেনি।এখনও সেই একই ধারা মেনেই চলে আসছে।এমতবস্থায় বিধানসভায় পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম মা ক্যান্টিন সংক্রান্ত এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।তিনি জানান, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছিল।বর্তমানে ব্লক, পুরসভা ও কর্পোরেশন এলাকায় চলছে মা ক্যান্টিন।পাশাপাশি, ৩৩টি মেডিক্যাল কলেজ ও জেলা হাসপাতালেও এই ক্যান্টিন চালু রয়েছে।
মা ক্যান্টিনে খাবার নিয়েছেন সাত কোটির বেশি মানুষ, বিধানসভায় জানালেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।তাঁর মতে, রাজ্যে মা ক্যান্টিনের জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে।সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি মাসে প্রায় ২১ লক্ষ মানুষ এই ক্যান্টিনে খাবার খান।এখনও পর্যন্ত সাত কোটি ২৯ লক্ষ মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা নিয়েছেন।রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ১২৮ কোটি টাকা খরচ করেছে এই প্রকল্পের জন্য।সোমবার মেয়র জানিয়েছেন, ক্ষ্ম৩৩টি জেলা হাসপাতালে মা ক্যান্টিন চলছে।যার জন্য প্রায় ১২৯ কোটি টাকা খরচ হয়েছে রাজ্যের।২১.৩৯ লক্ষ মানুষ প্রতি মাসে ডিম ভাত খান মা ক্যান্টিং থেকে।প্রায় ৭ কোটি ২৯ লক্ষ মানুষ এখনও পর্যন্ত এই ক্যান্টিনে খাওয়াদাওয়া করেছেন।
তবে মমতার মস্তিষ্কপ্রসূত এই ক্যান্টিন নিয়ে কম কাদা ছোড়াছুড়ি হয়নি।জগদীপ ধনকড় বাংলার রাজ্যপাল থাকাকালীন প্রশ্ন তুলেছিলেন ক্যান্টিনের খরচ নিয়ে। তর্ক-পাল্টা তর্কে জড়িয়েছিলেন শাসক-বিরোধীরা।যদিও এ যাবৎ প্রকল্পের খরচ নিয়ে খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি শাসকবিরোধীরা।কিন্তু কলকাতা পুরসভার একটা চিন্তা আছেই।যতদিন যাচ্ছে তত ভিড়ও বেড়ে চলেছে এই প্রকল্পে।অফিসযাত্রীরাও সেখানে এসে খেয়ে নিচ্ছেন।কাজেই খরচের বহরও বেড়ে গিয়েছে।আর তার জেরেই হিমশিম দশা।তাছাড়া শাক-সবজি, ডিমের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়াও একটা ঘটনা।পুরকর্তারা অবশ্য অনেকেই সন্দেহ করছেন, মা ক্যান্টিনের হিসাবে ‘জল’ থাকতে পারে।যে কারণে কত প্লেট খাবার বিলি হল, সেই সংখ্যাটা পরের দিন বেলা ১২টার মধ্যে কেএমসি পোর্টালে নথিভুক্ত করার নির্দেশ রয়েছে পুরসভার।
