দিন দর্পণ, কলকাতাঃ আহিরীটোলা কান্ডে আবারও উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য।গতকাল বুধবার ময়নাতদন্তের রির্পোট প্রকাশ্যে এসেছে।সেই রির্পোটে মৃতার দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।মাথা থেকে শুরু করে ঘাড়, দুই হাত, পায়ের গোড়ালি, সবেতে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন।মাথার খুলিও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল এবং মাথায় রক্ত জমাট বাঁধার চিহ্নও মিলেছে।শুধু তাই নয়, কাটা হয়েছিল দু-পায়ের নীচের অংশ এবং দুটি গোড়ালিও।এই কাজের জন্য বঁটি ব্যবহার করেছিলেন দুই অভিযুক্ত।রিপোর্টে এও বলা হয়েছে, ময়নাতদন্তের ৪৮-৫০ ঘণ্টা আগে খুন করা হয়েছিল।
এই ঘটনায় জানা যাচ্ছে, অভিযুক্ত ফাল্গুনী পিসিশাশুড়িকে খুনের পর নাকি মা আরতি ঘোষকে নিয়ে বউবাজারে গিয়েছিল।সেখানে ৫০ হাজার টাকার গয়নারও অর্ডার দিয়েছিল সে।মৃত সুমিতাদেবীর টাকাতেই এই গয়না অর্ডার করেছিল ফাল্গুনী।পিসিশাশুড়িকে খুন ও দেহ টুকরো করার পরেও একেবারে সাধারণ ছিল সে।খুন করার পরেই মাকে নিয়ে বেরিয়েছিল জায়গা খুঁজতে।কোথায় দেহ ফেলা যায়।এমনকী মৃতার এটিএম থেকে টাকাও তুলেছিল।সোমবারই তারা দু’জন মিলে গঙ্গার ধারে গিয়ে প্ল্যান করে।কীভাবে গঙ্গায় ফেলা হবে দেহ, গঙ্গার ধারে দাঁড়িয়েই তার ছক কষে মা ও মেয়ে।রাতে বাড়ি ফিরে দেখে পচা গন্ধ বের হচ্ছে দেখে, তখনই সুগন্ধি স্প্রে করে তারা।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকালে ট্রলি ব্যাগে করে পিসি শাশুড়ির তিন টুকরো দেহ গঙ্গায় ফেলতে গিয়েই কুমোরটুলি ঘাট থেকে গ্রেপ্তার হয়, মধ্যমগ্রামের দুই বাসিন্দা ফাল্গুনী ঘোষ ও তার মা আরতি।বুধবার মা আরতি ও মেয়ে ফাল্গুনীকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হয়।তাঁদেরকে একদিনের জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক।যেহেতু খুনের ঘটনাস্থল মধ্যমগ্রাম, তাই আদালতের নির্দেশ, এই মামলার যাবতীয় নথি ও কেস ডায়েরি উত্তর বন্দর থানাকে তুলে দিতে হবে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশের হাতে।বৃহস্পতিবার মা ও মেয়েকে বারাসত আদালতে তোলার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
