দিন দর্পণ, কলকাতাঃ সোমবার চিকিৎসকদের সাথে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য দফতরের তরফে কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘চিকিৎসার আরেক নাম সেবা’ শীর্ষক সম্মেলনে বত্তৃতা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করিয়ে দিলেন, চিকিৎসার আর এক অর্থ সেবা।এদিন সকলের সামনে তিনি বলেন,মেদিনীপুর মেডিক্যালে নিশ্চয়ই গাফিলতি ছিল।জুনিয়র চিকিৎসকদের উপরে পুরো দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া উচিত হয়নি।
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের স্যালাইন কান্ডে সাসপেন্ড হওয়া জুনিয়র চিকিৎসকদের উপর থেকে সাসপেনশন তুলে নেওয়ার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি জুনিয়র চিকিৎসকরা।মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে স্যালাইন কাণ্ডের জেরে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় ১২ জন চিকিৎসককে সাসপেন্ড করা হয়েছিল।তাঁদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ ওঠে।রাজ্যের রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ঘটনার দিন আরএমও এবং কল ডিউটিতে যে ডাক্তাররা ছিলেন তাঁরা ওটিতে দেখতে যাননি।জুনিয়র ডাক্তারদের নিয়ে অপারেশন করা হয়েছিল।অ্যানাস্থেসিয়া সিনিয়র ডাক্তারদের দিয়ে দেওয়ার কথা ছিল তবে সেটাও পিজিটিকে দিয়ে দেওয়া হয়েছিল।অর্থাৎ পুরো প্রক্রিয়ায় গাফিলতি ছিল।
এই স্যালাইন কান্ডে ব্যাপকভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।তাঁর বক্তব্য ছিল, যাঁদের জন্য এই কাণ্ড হয়েছে, তাঁদের রাখা যাবে না।তাঁদের কারণে অন্য রোগীরও ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।তাই কোনরকম ঝুঁকি নেওয়া যাবে না।কিন্তু সোমবার চিকিৎসক সম্মেলনে তিনি বলেন, গাফিলতি অবশ্যই ছিল।সেটার তদন্ত হচ্ছে।জুনিয়র ডাক্তারদের কয়েকজনকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল।তাদের রিপোর্টও পুলিশ পেয়েছে।এটাও ঠিক, তাঁরা এখনও পাকাপোক্ত হয়নি।তাদের ওপর ছেড়ে দিয়ে যাওয়াটাও ঠিক হয়নি একতরফা ভাবে।তাই তাঁদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমি সাসপেনশন তুলে নিচ্ছি।
