রাজ্যের ছোট কৃষকদের আলু মজুতে নয়া ভাবনা রাজ্য সরকারের


দিন দর্পণ, কলকাতাঃ রাজ্য সরকার রাজ্যের ছোট ও প্রান্তিক কৃষকদের কথা ভেবে এক বড়ো সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছেন।হিমঘরে ছোট এবং প্রান্তিক কৃষকদের আলু মজুত রাখার ‘সংরক্ষিত’ এলাকার পরিধি ১০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার।প্রশাসনের বক্তব্য, যেখানে হিমঘরের সংখ্যা কম, সেখানে আলু রাখতে সমস্যায় পড়েন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকেরা।সরকারের এই ব্যবস্থায় তাঁদের সুবিধা হবে।

প্রতি বছর ১ মার্চ থেকে রাজ্যের হিমঘর গুলি খোলে।প্রতিবছরই অনেক এলাকার ছোট ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য সংরক্ষিত রাখতে হবে, তা স্থির করে দেয় রাজ্য।কিন্তু এবছরে সরকারি নির্দেশ, ২০ মার্চ পর্যন্ত ছোট ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য হিমঘরের মোট মজুত-জায়গার ন্যূনতম ৩০ শতাংশ বরাদ্দ রাখতেই হবে।গতবারে এই বরাদ্দ ২০ শতাংশ ছিল।এরই সাথে এই বছরে মাথাপিছু ৭০ বস্তা বা ৩৫ কুইন্টাল আলু হিমঘরে মজুত রাখতে পারবেন কৃষক।যা গতবছরের তুলনায় ২০ বস্তা বেশি আলু।

দক্ষিণবঙ্গে হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুরে হিমঘরের সংখ্যা বেশি। ফলে উৎপাদন বেশি হলেও সেখানে সমস্যা থাকে না।কিন্তু, সমস্যায় পড়তে হয় উত্তরবঙ্গের কৃষকদের, উত্তরবঙ্গে হিমঘরের সংখ্যা কম।আলুর উৎপাদন বেশি হলে সেখানে ছোট ও প্রান্তিক কৃষকদের কিছুটা সমস্যা হয়।সরকারের নির্দেশ, ২০ মার্চ পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের জন্য এই সুবিধা চালু রাখতেই হবে।তার মধ্যে যে কৃষক প্রথমে এসে আলু রাখতে চাইবেন, তাঁকে সেই সুযোগ দিতে হবে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি বছর অন্তর আলু উৎপাদন বেশি হয়।গত বছর ১২৭ লক্ষ টন আলু উৎপাদিত হয়েছিল।এ বছর তাই মনে করা হচ্ছে, আলু উৎপাদন বেশি হবে।এই গোটা বিষয়টাতে নিবিড় নজর রাখার দায়িত্ব জেলাশাসকদের দেওয়া হয়েছে।এত দিন রাজ্যে আলুর ৪৯৬টি হিমঘর ছিল।যাতে ৮১ লক্ষ টনের বেশি আলু রাখা যেত।নতুন আরও ১২টি হিমঘর চালু হওয়ায় আরও ১.৩৭ লক্ষ টন আলু রাখা যাবে।শুধু উত্তরবঙ্গেই ১০টি নতুন হিমঘর চালু হয়েছে।তার কারণে উত্তরবঙ্গে আলু মজুত রাখার সমস্যা অনেকটাই মিটবে বলে রাজ্যের আশা।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *