দিন দর্পণ, লক্ষ্ণৌঃ বিয়ের অনুষ্ঠানের মধ্যে আচমকাই ঢুকে পড়ল চিতাবাঘ।আর মুহূর্তেই বিয়ের আনন্দ বদলে গেল আতঙ্কে।হুড়োহুড়ি পড়ে গেল অতিথিদের মধ্যে।প্রাণভয়ে বিয়ের আসর ছেড়ে পালালেন অতিথি সহ বর-কনেও।বুধবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে।বিয়ের মন্ডপে এক ‘অচেনা অতিথির আগমনে তটস্থ হল প্রত্যেকে।হরের একটি বড় লজে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল।অতিথিরা নাচগান, খাওয়াদাওয়া আর আনন্দে মেতে ছিলেন।লজের খোলা জায়গাতেই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।অন্য দিকে, ছাঁদনাতলায় তখন বিয়ের মন্ত্রোচ্চারণ চলছিল।অতিথিরা যখন হইহুল্লোড়ে ব্যস্ত, তখনই সেই লজের চত্বরে চুপিসারে ঢুকে পড়েএক মস্ত চিতাবাঘ।বিয়েতে আসা এক অতিথিরই চোখে পড়ে চিতাবাঘটিকে।প্রথমে তিনি বিশ্বাস করতে পারেননি।শহরের মধ্যে বাঘ কোথা থেকে আসবে ভেবেই বিষয়টিকে পাত্তা দিতে চাননি প্রথমে।লজের একটি গাছের আড়ালে বসেছিল চিতাবাঘটি।
এই অতিথির দাবি, সন্দেহ দূর করার জন্য গাছের সামনে এগিয়ে যেতে চমকে ওঠেন।তখন বুঝতে পারেন, সত্যিই তাঁর চোখের কোনও ভুল হয়নি।বিয়ের আসরে চিতাবাঘের খবর চাউর হতেই হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।আতঙ্ক আর চিৎকারে ভরে ওঠে পরিবেশ।সেই হুড়োহুড়ির ফাঁকে চিতাবাঘটিও লজের ভিতরে ঢুকে পড়েছিল।সেটি লজের দোতলার একটি ঘরে ঢুকে পড়ে।লজের অন্য ঘরে তখন আতঙ্কিত বর-কনে অতিথিরা বন্দি।বিয়ের আসরে চিতাবাঘের উপস্থিতির খবর পৌঁছয় বন দফতরের কাছে।দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন বন দফতরের কর্মীরা।সঙ্গে দু’জন পশুচিকিৎসককেও নিয়ে আসা হয়েছিল।প্রথমে অনুষ্ঠানে আসা অতিথি এবং বর-কনেকে নিরাপদে বার করে নিয়ে আসা হয়।তার পর চিতাবাঘটিকে ধরার ব্যবস্থা করে বন দফতর।প্রায় ২০০ মিনিট লুকোচুরির পর অবশেষে বাঘটিকে বাগে আনতে সক্ষম হন বনকর্মীরা।
লখনউয়ের বিভাগীয় বনাধিকারিক সীতাংশু পাণ্ডে জানিয়েছেন, ৮০-৯০ কেজি ওজনের পুরুষ চিতাবাঘ। মনে করা হচ্ছে খেড়ি অঞ্চল থেকে শহরে ঢুকে পড়েছিল সেটি।পুলিশ সূত্রে খবর, অক্ষয় শ্রীবাস্তব এবং জ্যোতি কুমারীর বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল বুধবার।রাত ১১টা ৪০ মিনিটে তাঁদের কাছে খবর আসে, বিয়ের অনুষ্ঠানে চিতাবাঘ ঢুকে পড়েছে।অতিথিরা প্রথমে ভেবেছিলেন পথকুকুর।কিন্তু ভুল ভাঙতেই হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।চিতাবাঘের হামলায় দুই ক্যামেরাম্যান এবং এক অতিথি জখম হন।তার পর সেটি লজের একটি ঘরে ঢুকে পড়ে।চিতাবাঘটিকে উদ্ধার করতে গিয়ে আহত হন এক বনাধিকারিকও।রাত সাড়ে ৩টে নাগাদ বাঘটিকে উদ্ধার করা হয় বলে বন দফতর সূত্রে খবর।
