তিলোত্তমার রাস্তায় আসতে চলেছে দুমুখো ট্রাম


দিন দর্পণ, কলকাতাঃ কলকাতা শহরে দেখা যাবে দুমুখো ট্রাম।কলকাতার রাস্তা থেকে ট্রাম তুলে নেওয়া নিয়ে প্রচুর বিতর্ক লেগেই রয়েছে।তবে এই বিতর্কের মধ্যে আসতে চলেছে দুটি ইঞ্জিনের ট্রাম।এই ধরনের দুটি ইঞ্জিনের ট্রাম শেষ দেখা গিয়েছিল হাওড়া শিবপুরের ৪০ নম্বর রুটে।১৯০৭ সাল নাগাদ হাওড়া মিউনিসিপ্যালিটি কলকাতার ট্রাম কোম্পানিকে ট্রাম লাইন পাতার অনুমতি দেয়।হাওড়ার ট্রাম লাইন উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত ছিল।উত্তরে দু’টি ট্রাম লাইন ছিল।একটি ছিল হাওড়া ব্রিজ থেকে সালকিয়া বাঁধাঘাট রোড পর্যন্ত এবং অপরটি ছিল ঘুসুড়ি রোড পর্যন্ত।অপর একটি ছিল পূর্ব গোলাবাড়ি রোড পর্যন্ত।পাশাপাশি, দক্ষিণের ট্রাম লাইন ছিল হাওড়া ব্রিজ থেকে বাকল্যান্ড ব্রিজের ওপর দিয়ে হাওড়া কোর্ট ও ময়দানের দিক দিয়ে কেওড়াপাড়া ঘাট পর্যন্ত।এটি ছিল শিবপুর রুটের ট্রাম লাইন।

এই শিবপুর রুটের ট্রাম গুলি দুমুখো ছিল।মাঝে একটি বগি এবং দু’দিকে ইঞ্জিন।যেহেতু শিবপুর ট্রাম ডিপোতে ট্রাম ঘোরাবার পর্যাপ্ত জায়গা ছিল না, পাশাপাশি ওই ডিপোতে লুপ লাইন ছিল না তাই দু’দিকেই চালকের কেবিন ছিল।চালক ডিপোতে পৌঁছে আবার সেখান থেকে রওনা হওয়ার সময় কেবিন পরিবর্তন করে নিতেন।তবে ১৯৭১ সালে হাওড়ায় ট্রাম পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চিরতরে অবসর নেয় দুই ইঞ্জিনের ট্রামগুলিও।

পরিবহণ দফতর সূত্রে খবর, রাজ্য ধর্মতলা থেকে ময়দান আবার ময়দান থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত যে হেরিটেজ রুটে ট্রাম চালানোর পরিকল্পনা করছে সেই রুটে দুই ইঞ্জিনের ট্রাম চালানো হবে।তাই বর্তমানে দু’টি ট্রামকে এইভাবে তৈরি করা হচ্ছে নোনাপুকুর ট্রাম ডিপোতে।তবে এখনও অনেকটাই কাজ বাকি।একটি ট্রামকে নোনাপুকুরে প্রায় ৫ মাস ধরে দুই ইঞ্জিনের ট্রামে রূপান্তরিত করার কাজ চলছে।শুধুমাত্র জয় রাইডের জন্য ছোট একটি হেরিটেজ রুটে চালানো হতে পারে এই দুই ইঞ্জিনের ট্রাম।তারপর শহরবাসীর আনন্দের কোটা ফুরিয়ে গেলে আবারও একদিন হয়তো যাত্রীর অভাবে ডিপোতেই দাঁড়িয়ে থাকবে দু’মুখো এই ট্রামগুলি।তাই মহানগরের রাস্তায় ট্রামের ভবিষ্যত কী তা সময় বলবে।তবে ঐতিহ্যবাহী ট্রাম এবার রূপ বদলে মহানগরের রাস্তায় আসতে চলেছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *