দিন দর্পণ, কলকাতাঃকোভিড, এইচএমপিভির পর মানুষের মধ্যে নয়া আতঙ্ক দানা বাঁধতে শুরু করেছে।মহারাষ্ট্রে ইতিমধ্যে ১০০ উপরের রোগীর গুলেন বারি উপসর্গ পাওয়া গিয়েছে।মহারাষ্ট্রের পর বাংলাতেও এর থাবা পড়েছে।এই রোগের কারণে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের।গত কয়েকদিনে মানুষের মনে চিন্তার কারণ সৃষ্টি করেছে এই গুলেন বারি।স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে বিবৃতি জারি করেন।তিনি বলেন, গুলেন বারি সিনড্রোম নতুন কোনও ধরনের বা বিরল কোনও রোগ নয়।এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা দেশে বা রাজ্যে নতুন কিছু নয়।মূলত অ্যাকিউট ফ্ল্যাসিড প্যারালাইসিসের কারণে এই রোগ হয়ে থাকে।আক্রান্ত হন সাধারণত ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা।
এই রোগের লক্ষণ হলো, পায়ের পেশিতে দুর্বলতা, অসাড় ভাব।এই অনুভূতি বাড়তে বাড়তে, হাঁটতে অসুবিধা হয়।হাত-পা নাড়াতে সমস্যা হয়।এর গুরুত্বর লক্ষণগুলি হল, মেরুদণ্ড দুর্বল হয়ে পড়া, মুখাবয়ব পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যাওয়া, বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট, কথা বলতে ও খেতে অসুবিধা, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, শরীরের ভারসাম্য হারানো ইত্যাদি।গুলেন বারির রোগীরা প্রথমে হাতে-পায়ে দুর্বলতা অনুভব করে, পরে তা ধীরে ধীরে সারা শরীরে ও শ্বাস-প্রশ্বাসের পেশিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে।ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।এটাই গুলেন বারির সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক।শ্বাস-প্রশ্বাসের পেশিগুলোর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়তে পড়তে যখন ডায়াফ্রামও,শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণকারী প্রধান পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন রোগী ঠিকমতো শ্বাস নিতে পারে না।ফুসফুস থেকে কফ বের করতেও কষ্ট হয়, যা নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
এই গুলেন বারি থেকে বাঁচার জন্য কিছু কাজ খুবই করণীয়, যেমন- ভালভাবে হাত ধোয়া, হাত ধোয়ার মাধ্যমে ফুসফুস ও অন্ত্রের সংক্রমণ কমানো যায়।যেকোন খাবার ভালভাবে রান্না করা, বিশেষ করে ক্যাম্পাইলোব্যাক্টার জেজুনি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ প্রতিরোধ করা দরকার।কোন প্রকার উপসর্গ দেখা গেলে সংক্রমণের দ্রুত চিকিৎসা, ডায়রিয়া বা শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।টিকা নেওয়ার পর মাংসপেশির দুর্বলতা বা অবশ লাগলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া। এর মতে গুলেন বারি কোনরকম ছোঁয়াচে বা বংশগত রোগ না।কিন্তু,যদি রোগী চার সপ্তাহের মধ্যে দুর্বল হয়ে পড়েন, তাহলে ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।কারণ, এটি হঠাৎ পক্ষাঘাত সৃষ্টি করতে পারে এবং রোগীকে যে কোনও সময় ভেন্টিলেটরের প্রয়োজন হতে পারে।গুলেন বারি সিন্ড্রোম সাধারণত ২-৩ সপ্তাহ স্থায়ী হয়।চিকিৎসার পর পুরোপুরি সুস্থ হতে ৩-৪ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা হলে ৬০-৭০ শতাংশ রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন।
