দিন দর্পণ,কল্যাণ অধিকারী: ১৭ থেকে ১৯ শে জানুয়ারি মধ্যপ্রদেশ ভোপালে অনুষ্ঠিত হলো তৃতীয় ন্যাশনাল কনফারেন্স্ ইন্ লেসার্ নোন্ স্পিসিস্।আয়োজন করেছে এস.এন.এইচ.সি ইন্ডিয়া (সোসাইটি অফ নেচার হিলারস্, কনজারভেটারস্ এন্ড লোকাল ট্যুরিজম ডেভোলপমেন্ট ভোপাল)।এই কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন দেশ-বিদেশের বহু পরিবেশ বিজ্ঞানী, বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ, বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্য, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য বনমন্ত্রকের বিভিন্ন আধিকারিক ও অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকগণ।
ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যে বাঘ সিংহ হাতি ও অন্যান্য বড়ো প্রাণী সংরক্ষণের জন্য কাজ হলেও ; ভারতবর্ষের বিভিন্ন জায়গায় যেসব বন্য বিড়াল, পাখি, কচ্ছপ ও অন্যান্য লেসার্ নোন্ স্পিসিস্ রা রয়েছে, তাদের সংরক্ষণ ও রক্ষার বিষয়ে এই কনফারেন্সে আলোচনা হয়।এছাড়া যে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণকারীরা কোনো সরকারি ও বেসরকারি সাহায্য ছাড়া বিভিন্ন লেসার্ নোন্ বন্যপ্রাণী রক্ষার জন্য কাজ করে চলেছে তাদেরকেও বক্তব্য রাখার জন্য এই কনফারেন্সে আমন্ত্রিত করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গ থেকে উপস্থিত ছিলেন বন্যপ্রান সংরক্ষনকারী লেখিকা ডঃ ঐশিমায়া সেন নাগ ও বন্যপ্রান সংরক্ষনকারী চিত্রক প্রামাণিক।চিত্রক প্রামাণিক পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য প্রানী মেছোবিড়াল বা বাঘরোল সংরক্ষণের বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।এছাড়া নন্ ফরেস্ট এলাকায় বিভিন্ন বন্যপ্রাণী উদ্ধার, তাদের বাসস্থান সঙ্কট, মানুষের সঙ্গে তাদের সহাবস্থান এবং আগামী দিনে নতুন প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষের কি করনীয় সেই সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করেন।ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যের বহু জনজাতি দীর্ঘ বছর ধরে প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী রক্ষার কাজ করছে, সেরকমই রাজস্থানের বিস্নোই জনজাতির একজন সদস্য রাধেশ্যাম বিস্নোই এর কাজ ডঃ ঐশিমায়া সেন নাগ সবার সামনে তুলে ধরেন।পুরো অনুষ্ঠান টি পরিচালনা করেন এস.এন.এইচ.সি ইন্ডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বিকাশ সিং বাঘেল।
এই অনুষ্ঠানে বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।তাদের মধ্যে অন্যতম কেন্দ্রীয় জু অথরিটির মেম্বার সেক্রেটারি ডঃ সঞ্জয় কুমার শুক্লা, ওয়াইল্ড লাইফ কনসারভেশন ট্রাস্টের প্রেসিডেন্ট ডঃ আনিশ আন্ধেরিয়া, মধ্যপ্রদেশ বনবিভাগের প্রাক্তন মুখ্য বনপাল ডঃ সুহাস কুমার, ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়ার জয়েন্ট ডিরেক্টর ডঃ সমীর কুমার সিনহা, আইইউসিন এর হর্নবিল কমিশনের সদস্য অজয় গড়ীকর প্রমুখ।দুই দিন আলোচনা সভা ও তৃতীয় দিন মধ্যপ্রদেশের বন বিহার ন্যাশনাল পার্কে পাখি শুমারি দিয়ে এই অনুষ্ঠান শেষ হয়।
