দিন দর্পণ, কলকাতাঃ ভারতে প্রথম কলকাতায় শুরু হলো এমার্জেন্সি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স।চিকিৎসা পরিষেবায় এক দৃষ্টান্ত গড়ে তুলতে চলেছে কলকাতার এক হাসপাতাল।ট্রাফিকের যানজট কাটিয়ে খুব সহজেই গুরুতর অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।কলকাতার একটি বেসরকারী হাসপাতাল।ডিসান হাসপাতাল তাদের নতুন অ্যানেক্স টু বিল্ডিংয়ের ছাদে হেলিপ্যাড চালু করতে চলেছে।শুক্রবার এই পরিষেবা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।
ডিসান হাসপাতালই কলকাতার প্রথম হাসপাতাল, যেখানে এই ধরনের হেলিপ্যাড পরিষেবা চালু হতে চলেছে।এই হেলিপ্যাড তৈরিতে প্রায় দু’বছর সময় লেগেছে, যা মূলত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের আসা-যাওয়া সহজতর করবে।হেলিপ্যাডের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ এবং প্রতিবেশী রাজ্যগুলির প্রত্যন্ত এলাকা থেকে বিভিন্ন এমার্জেন্সি রোগীকে উড়িয়ে এনে হাসপাতালে চিকিৎসা করা হবে।আজ, শুক্রবার বেহালা ফ্লাইং ক্লাব থেকে একটি হেলিকপ্টার পরীক্ষামূলক উড়ান দিয়ে এই হেলিপ্যাডে অবতরণ করবে।
শুক্রবার পরীক্ষামূলকভাবে রুবির একটি হাসপাতালের ছাদে নামবে ওই হেলিকপ্টার।তাই সেই ছাদে তৈরি করা হয়েছে হেলিপ্যাড।উপস্থিত থাকবেন ডিজিসিএ’র প্রতিনিধিদল।ডিজিসিএ’র অনুমতি ছাড়া কোনও অসামরিক বিমান বা হেলিকপ্টার উড়তে পারে না।এটাই নিয়ম।তাই ডিজিসিএ সূত্রের খবর, কলকাতা শহর খুব ব্যস্ত।একটি বাড়ির ছাদে রোজ হেলিকপ্টার ওঠা-নামা করলে কী কী ধরনের সমস্যা হতে পারে সেটা খতিয়ে দেখা হয়েছে।এক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত মানতে হয়।এক, হেলিকপ্টারকে দুই,ইঞ্জিনের হতে হবে।দুই, হেলিকপ্টারে দু’জন পাইলট থাকবে।তিন, ঘিঞ্জি এলাকায় অন্যান্য নির্মাণ বাঁচিয়ে ওঠা-নামা করতে হবে।তার জন্য চাই প্রশিক্ষণ।হেলিপ্যাড পরিষেবা চালুর মাধ্যমে দিশান হাসপাতাল দেশের স্বাস্থ্য খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিষেবা একাধিক সমস্যার সমাধান করবে।এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে গুরুতর রোগী বা দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা সম্ভব হবে।দুর্গম এলাকা থেকেও রোগীকে সরাসরি হাসপাতালে আনা যাবে।আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
ডিসান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই উদ্যোগের সাফল্য দেখে ভবিষ্যতে অন্য হাসপাতালেও এমন ব্যবস্থা চালু হতে পারে।এর পাশাপাশি, তারা আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়নের পরিকল্পনা করছে।হাসপাতালের ছাদে হেলিপ্যাড তৈরির এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র প্রযুক্তির উন্নয়ন নয়, এটি রোগীর প্রতি একটি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির উদাহরণ।ডিসান হাসপাতালের এই উদ্যোগ দেশে স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
