স্যালাইন কান্ড নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ অভিষেকের


দিন দর্পণ, ১৫ই জানুয়ারীঃ মেদিনীপুরের সেলাইনে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ফলতার একটি অনুষ্টানে গিয়ে তিনি এবিষয়ে মুখ খোলেন।তিনি জানান, ‘গোটা ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।রাজ্য সরকার বিষয়টি দেখছে।ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।’তিনি এই স্যালাইন কান্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

দিন ছয়েক আগে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঁচজন প্রসূতি সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন।সেই ঘটনার কিছু সময় পরেই তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েন।জেলা হাসপাতালেই মারা যান মামণি রুইদাস নামে এক প্রসূতি।তারপরেই এনিয়ে জোরকদমে চর্চা শুরু হয়।অভিযোগ, তাঁদের বহু দিন আগে নিষিদ্ধ হওয়া স্যালাইন প্রয়োগ করা হয়েছে।বিষয়টির তদন্ত ভাড় পড়ে সিআইডির উপর।ইতিমধ্যেই রিঙ্গার ল্যাকটেট ও অক্সিটোসিন ব্যবহারের তথ্যও সামনে এসেছে।আপাতত স্যালাইন দুটি নিষিদ্ধ করেছে রাজ্য সরকার।

বুধবার ফলতায় সেবাশ্রয় শিবিরে যান অভিষেক।সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়ে অভিষেক বলেন, রাজ্য সরকার নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, ‘তদন্তও চলছে।মানুষের প্রাণ মণিমুক্তোর মতো।কারও গাফিলতি যদি প্রমাণিত হয় তাহলে কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি হবে।’তৃণমূল সাংসদের কথায়, এমন কাজ এই সরকার আগেও করেছে।দলমত নির্বিশেষে প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়েছে, এবারও তাই হবে।

এদিন আরও একবার আরজি করের ঘটনা নিয়ে কথা বলেন তিনি।মনে করিয়ে দেন, যে সঞ্জয় রায়কে কলকাতা পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করেছিল, সেই মামলার তদন্তে সিবিআই-এর পাঁচ মাস লেগেছে।কেন এত সময় লাগল, সেই প্রশ্নও সকলের করা উচিত।কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাজের নীতি নিয়েও কার্যত প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।বলেন, তাঁকে যখন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হত সেই সময়ই তিনি বলেছিলেন, সিবিআই আগে থেকে দোষী ঠিক করে নেয়, তারপর ভাবতে শুরু করে কীভাবে তাঁকে ফাঁসাতে হবে।কিন্তু রাজ্য প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্তে বিশ্বাসী। দোষ যারই হোক, গাফিলতি থাকলে শাস্তি সে পাবেই। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে স্যালাইন-কাণ্ডে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে।বাকি আরও চারজন অসুস্থ।তাঁদের অনেক আগে নিষিদ্ধ হওয়া স্যালাইন রিঙ্গার ল্যাকটেট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে এই ঘটনার তদন্তে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।পাশাপাশি চিকিৎসায় ব্যাপক গাফিলতি হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।স্যালাইন কাণ্ড নিয়ে ফের একবার সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।কেন নিষিদ্ধ স্যালাইন ব্যবহার বন্ধ করা হয়নি, কেন আগে থেকে পদক্ষেপ করা হয়নি, এমন প্রশ্ন সামনে উঠে আসছে।অভিষেক এদিন বলেন, কেউ ভবিষ্যৎ দেখতে পারে না।আগে থেকে বোঝা সম্ভব নয় যে কী ঘটতে পারে।কোনও ঘটনা ঘটার পর সরকার, প্রশাসন কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, পুলিশ কী তদন্ত করছে, সেটাই আসল ব্যাপার।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *