দিন দর্পণ, ১২ই জানুয়ারীঃ পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে দক্ষিণবঙ্গের সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় শুরু হতে চলেছে মহাসমাগমময় গঙ্গা পুজো।৭৯ তম বর্ষের পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে শ্রী শ্রী গঙ্গামাতার পূজার্চনা দ্বাদশ প্রহর নামযজ্ঞ উৎসবকে ঘিরে উত্তেজনা চোখে একেবারেই তুঙ্গে।দিঘার নিকটবর্তী এই মহাসমাগমে মেতে উঠেছে এলাকাবাসী।এবং সেই কানপুর ও কিসমত থিয়ার ব্যবসায় গোষ্ঠী ও গ্রামবাসীদের পরিচালনায় এই মহোৎসবের শুভ সূচনায় রয়েছেন বিধায়ক অখিল গিরি।
প্রতিবছর এই মেলাকে ঘিরে মানুষের উদ্দীপনা থাকে প্রবল। উপস্থিত হন কয়েক হাজার মানুষ।যা একত্রিত হয়েই অনুষ্ঠিত হয় অন্য মহোৎসব।এছাড়াও মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন সমাজসেবা মূলক কাজের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা শিবির রক্তদান শিবির এছাড়াও বস্ত্রদান কর্মসূচিরও ব্যবস্থা রয়েছে।সব শেষে অনুষ্ঠিত হয় পৌষ সংক্রান্তি, যা সাধারণত বাংলা মাসের শেষ দিন হিসেবেই পরিচিত।এদিন ভক্তরা মা গঙ্গার পবিত্র জলে ডুব দিয়ে ভগবান সূর্য দেবকে নৈবেদ্য প্রদান করেন এবং ভগবান সূর্য দেবের উদ্দেশ্যে মন্ত্র উচ্চারণ করেন।
জ্যোতিশশাস্ত্র মতে সূর্যের রাশি পরিবর্তনের দিনটিই হলো সংক্রান্তি।বাংলার নবম মাসের সংক্রান্তি হলো মকর সংক্রান্তি।আগামী ১৪ই জানুয়ারি মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এই মহোৎসব।যার মধ্যে রয়েছে পৌষ সংক্রান্তি, মকর সংক্রান্তি, পৌষ পার্বণ, শ্রী শ্রী বাস্তু পুজো, শ্রী শ্রী গঙ্গাদেবীর আবির্ভাব উপলক্ষে সাগর সঙ্গমে স্নান, গঙ্গাসাগর মেলা, শ্রী শ্রী টুসুপূজা, এবং প্রয়াগে মহাকুম্ভ স্নান।
উৎসবের দিন ভগবানকে প্রসাদ হিসেবে নিবেদন করা হয় ভাত দিয়ে তৈরি থালা।সংক্রান্তি আগের দিন থেকে শুরু করে শেষ হওয়ার পরের দিন পর্যন্ত সমাজের প্রতিটা মানুষ এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে।গঙ্গাসাগরের এই অভিনব অনুষ্ঠান সাড়া ফেলেছে গোটা দেশে।সেক্ষেত্রেই দূরদূরান্ত থেকে এসে মানুষ একত্রিত হন এই মহোৎসবে।
সংক্রান্তির দিন সাধারনত দেবী লক্ষ্মীর পূজা করা হয়।পুজোটি হয় সম্পূর্ণ খোলা জায়গায়।সেক্ষেত্রে খোলা জায়গায় পুজো করার কারণেই এই পুজোর নামকরন হিসেবে রাখা হয়েছে বহর লক্ষী পুজো।এই পুজোয় গ্রামবাংলার বিভিন্ন মানুষ সহ কৃষক পরিবারগুলি তাদের ঘর পরিষ্কার করে, ধানের আল্পনা বা রঙ্গলি দিয়ে বাড়িকে সাজিয়ে তোলে, এছাড়াও মা লক্ষ্মীকে স্বাগত জানাতে আমের পাতা এবং ধানের ডালপালা ঝুলিয়ে দেয়।দেবী লক্ষ্মীর মহাপ্রিয় ধানের শীষ দিয়েই পুজো করা হয়।
