ডিজিটাল অ্যারেস্ট জালিয়াতির ‘মাস্টারমাইন্ড’ গ্রেফতার


দিন দর্পণ, ১০ই জানুয়ারিঃ একটি বড়সড় ডিজিটাল অ্যারেস্ট জালিয়াতি কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ।এর আগে ডিজিটাল অ্যারেস্ট কেলেঙ্কারির ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, এবার সেই সূত্র ধরেই বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার করা হয় প্রধান অভিযুক্ত চিরাগ কাপুরকে। যিনি প্রধানত চিন্তক রাজ নামেই পরিচিত।পুলিশ জানিয়েছে, এই চিরাগ কাপুর নিজেকে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বলে দাবি করেছেন এবং সাত মাস ধরে পুলিশের চোখ এড়িয়ে এই অপরাধ চালিয়ে গেছেন।জানা গিয়েছে, মোট ১৮০ কোটি টাকার প্রতারণা করেছে ওই ব্যাক্তি।বৃহস্পতিবার ভোর ৪.৩০ নাগাদ ব্যাঙ্গালুরুর জেপি নগরে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।পুলিশ তাঁর বাড়ি থেকে একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করেছে, যা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।

জুলাই মাসে কলকাতার জনা স্মল ফিনান্স ব্যাঙ্কে এক ব্যক্তি ৭ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা জমা করায় সেই টাকার সূত্র ধরেই সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতার আনন্দপুর, পাটুলি এবং নরেন্দ্রপুর এলাকায় পুলিশ তদন্ত চালায়।এই তদন্তে উদ্ধার করা হয়েছে ১০৪টি পাসবুক, চেকবুক, ৬১টি মোবাইল ফোন, ১৪০টি সিমকার্ড, ৩৩টি ডেবিট কার্ড, ২টি কিউআর কোড মেশিন, ৪০টি সিল এবং ১০টি ভাড়ার চুক্তিপত্র।এমনকি জানা গিয়েছে একটি অফিসে সমস্ত ভুয়ো অ্যাকাউন্ট জমা করার পর সেগুলির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেল আইডি, পাসওয়ার্ড বদলে আবারও সেগুলি দেশের অন্য কোনও জালিয়াতদের বিক্রি করা হত।এই সমস্ত জালিয়াতি চক্রের মূলমাথা ছিলেন চিরাগ কাপুর ওরফে চিন্তক রাজ।কলকাতা পুলিশ ইতিমধ্যেই তাঁকে গ্রেফতার করেছে এবং তাঁকে স্থানীয় আদালতে পেশ করার পর ট্রানজিট ডিমান্ডে নিয়ে আসা হবে কলকাতায়।

বহুদিন ধরে চলেছে এই বিরাট অপরাধচক্র।এর আগে অক্টোবর মাসে কলকাতা পুলিশ দিল্লি থেকে একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছিল।তিনি এই ধরনের ভুয়ো অ্যাকাউন্ট অন্য জালিয়াতদের বিক্রি করতেন।যৌথ পুলিশ কমিশনার(অপরাধ ও ট্রাফিক)রূপেশ কুমারের মতে, গত বছরের ১৭ জুন সাইবার ক্রাইম থানায় এই অভিযোগ দায়ের হয়।অভিযোগকারী দেবাশি দত্ত দাবি করেন, তাঁকে ভয় দেখিয়ে এবং প্রতারণার মাধ্যমে ৪৭ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়েছে।তাঁকে বলা হয়েছিল যে তাঁর নথি ও ব্যক্তিগত তথ্য মাদক পাচার এবং অর্থ পাচারের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।তাঁর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আনা হয় এবং তাঁকে জানানো হয় যে তিনি ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ হয়ে রয়েছেন।তিনি আরও জানান, প্রতারকরা তাঁকে ভয় দেখিয়ে বলেছিল যে তাঁর বাড়ি এবং পরিবারের উপর অভিযান চালানো হবে।তাঁকে ২৪ ঘণ্টা জুম সংযোগ চালু রাখতে বলা হয়েছিল এবং প্রতিটি কার্যক্রম নজরদারিতে রাখা হয়েছিল।এই ভয় ও চাপ সৃষ্টি করে প্রতারকরা তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তর করায়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *