দিন দর্পণ, কলকাতাঃ প্রতি বছরের মতো এবছরেও সকাল থেকে মানুষ স্বপরিবারে বেড়িয়ে পড়েছেন বড়োদিনের ছুটি কাটাতে।কলকাতার বিশেষ বিশেষ কিছু স্থানে ভিড় চোখে পরার মতোই।যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন উপলক্ষ্যে কলকাতা সহ জেলার সমস্ত গির্জা সেজে উঠেছে রঙবেরঙ-এর আলোয়।কলকাতা শহর দীপাবলির পর আবারো একবার সেজে উঠেছে।সকাল থেকে চিড়িয়াখানা, ভিক্টরিয়া মেমরিয়াল, ক্যাথিড্রাল চার্চ, মিলেনিয়াম পার্ক, দক্ষিণেশ্বর, বেলুড়মঠ, নিকো পার্ক, সায়েন্স সিটি, ইকো পার্ক সব জায়গাতেই মানুষের উপচে পড়া ভিড়।বাচ্চা থেকে বয়স্ক কেউই বড়োদিনে বাড়িতে বসে থাকতে রাজি না।শীতের আমেজ বার্ষিক পরীক্ষার শেষে এ যেনো এক আলাদা আনন্দ।
কলকাতা শহরে নতুন পার্ক,পাখিরালয় খুললেও আলিপুর চিড়িয়াখানা তার নিজের ঐতিহ্যের সঙ্গে এখনও সবার আগেই।১৫০ বছর উপলক্ষ্যে চিড়িয়াখানা মানুষকে আকর্ষণ করতে আরও অনেক নতুন চমক নিয়ে বেশ কয়েকদিন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছিল।গত বছর বড়োদিনে রেকর্ড গড়ে ছিল আলিপুর চিড়িয়াখানা।১ লক্ষের উপর মানুষ এসেছিলেন চিড়িয়াখানায় এবছরও সেই একই চিত্র নজর কাড়ল।চিড়িয়াখানার এবারের বিশেষ আকর্ষণ হলো, আফ্রিকান সিংহ, গ্রিণ অ্যানাকোন্ডা, সিল প্রভৃতি।এছাড়া, দর্শনার্থীরা থাকবে খাঁচায় আর পাখিরা থাকবে বাইরে।সেখানে দেখা মিলবে একাধিক প্রজাতির পাখির।মাথার উপরে পাখিরা উড়ে বেড়াবে।খুব কাছ থেকে পাখি দেখার সুযোগ থাকবে।এমনকি খাঁচায় রাখা হবে জলজ পাখিও।তার জন্য জলাশয়েরও ব্যবস্থা রয়েছে।
কলকাতার বো ব্যারক, পার্ক স্ট্রিট, ক্যাথিড্রাল চার্চ, অ্যালেন পার্ক, পাশাপাশি জেলার সমস্ত চার্চে সকাল থেকেই ভিড় জমিয়েছে মানুষ।পার্ক স্ট্রিট রবীন্দ্র সদন চত্বরে দুপুরের পর থেকে মানুষের সমাগম অত্যন্ত বেশি লক্ষ্য করা যায়।কিন্তু, এই উৎসবের মরশুমে জঙ্গিদের ডুকে পড়া নিয়ে বেশ সতর্ক কলকাতা পুলিশ।যে সমস্ত জায়গায় বেশি ভিড় হয় সেই সমস্ত জায়গায় ওয়ার্চ টাওয়ার তার পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরায় মুড়ে ফেলা হয়েছে।
এরই সঙ্গে যারা পিকনিক বা চার্চে ঘুড়ে বাড়ি ফিরবেন তাঁদের অসুবিধা এড়াতে কলকাতা মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ তরফ থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত মেট্রো চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।এছাড়াও রাজ্য পরিবহণ দফতরের তরফ থেকে রাত আটটা পর্যন্ত নিউটাউনের ইকো পার্কের ১ নম্বর এবং ৪ নম্বর গেট ছাড়াও প্যাঁচার মোড় থেকে একাধিক বাস ছাড়বে।এরই সাথে যারা চিড়িয়াখানা, ভিক্টরিয়া, জেল মিউজিয়াম ঘুরতে গিয়েছিলেন তাঁদের জন্য রবীন্দ্র সদন হয়ে অতিরিক্ত বাসের ব্যবস্থা করেছে রাজ্য পরিবহণ দফতর।
