কাশ্মীরে ৪০ দিনের চিল্লাই কালন


দিন দর্পণ, ২৪শে ডিসেম্বরঃ পুরো উত্তর ভারত তীব্র ঠান্ডায় কাঁপছে।কাশ্মীরের ডাল লেক ইতিমধ্যেই বরফের আস্তরণে ছেয়ে গিয়েছে।আবহাওয়া দপ্তর থেকে হিমাচল প্রদেশ এবং জম্মু-কাশ্মীরে বরফ ঠান্ডা বাতাসের সতর্কতা জারি করেছে।সেই সঙ্গে লাদাখ, কাশ্মীর ও হিমাচলের উত্তরাংশে প্রবল তুষারপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে।এছাড়াও পাঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড় সহ দেশের উত্তরভাগে প্রবল শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে মৌসম ভবন।

চিল্লাই কালনের অর্থ হল, সবথেকে বেশি ঠান্ডা।গত শনিবার থেকে কাশ্মীরে আগামী ৪০ দিনের জন্য চিল্লাই কালন শুরু হয়েছে।যা ২১ডিসেম্বর থেকে ৩১জানুয়ারী পর্যন্ত স্থায়ী হয়।এই সময় হিমায়িত তাপমাত্রা,ভারী তুষারপাত এবং শ্বাসরুদ্ধকর ল্যান্ডস্কেপের জন্য পরিচিত,এটি শীতের সবচেয়ে বেশি ঠান্ডা এবং সবচেয়ে বেশি সুন্দর মনোমুগ্ধকর পর্যায়।পর্যটকদের অন্যতম প্রিয় পহলগাঁও এবং গুলমার্গে তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে মাইনাস ৭.৮ ও মাইনাস ১.৯ ডিগ্রি।শ্রীনগরে সোমবার রাতে তাপমাত্রা নেমেছিল তাপাঙ্কের ৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে।দক্ষিণ কাশ্মীরের শোপিয়ানে তাপমাত্রা নামে মাইনাস ৮.৮ ডিগ্রি, যা উপত্যকার সর্বনিম্ন।অনন্তনাগ ও পুলওয়ামায় মাইনাস ৮.৩ ও কুলগাঁওয়ে মাইনাস ৬.৭ ডিগ্রি তাপমাত্রা নেমেছিল।

হিমাচল প্রদেশের অন্যতম পর্যটনস্থল মানালিতে বরফ পড়ে রাস্তা আটকে যাওয়ায় সোলাং এবং অটল টানেলের মাঝে প্রায় হাজারখানেক গাড়ি যানজটে আটকে পড়ে।বেশ কয়েক ঘণ্টা প্রবল ঠান্ডার মধ্যে আটকে পড়ে থাকেন পর্যটকরা।পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন মিলে উদ্ধারকাজ চালিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৭০০ জনের বেশি পর্যটককে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিয়েছে।স্থানীয় হোটেল মালিক ও পর্যটনের উপর নির্ভরশীল মানুষও বরফ পড়ায় খুব খুশি।হোটেল মালিকদের অনুমান এইভাবে তুষারপাত হতে থাকলে আরও পর্যটকের ভিড় বাড়বে।এমনিতেই বছর শেষের ছুটি কাটাতে এবং তুষারপাত দেখতে হাজার হাজার পর্যটক এখন উত্তর ভারতমুখী।

এরই সাথে বঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা দার্জিলিংয়ের পার্বত্য এলাকায়।বড়দিন, ২৫ ডিসেম্বর দার্জিলিঙের পার্বত্য কিছু এলাকায় খুব হালকা বৃষ্টির সামান্য সম্ভাবনা।উত্তরবঙ্গের আর কোনও জেলাতে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই।উত্তরবঙ্গেও ঘন কুয়াশার সতর্কবার্তা রয়েছে।ঘন কুয়াশার সতর্কবার্তা পাঁচ জেলায়।কুয়াশার সম্ভাবনা বেশি দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর এবং মালদা জেলাতে।কুয়াশা থাকবে বাকি জেলাগুলিতেও।দৃশ্যমানতা বেশিরভাগ জায়গায় ২০০ মিটারের নিচে নামবে। দৃশ্যমানতা কোথাও কোথাও ৫০ মিটারে নেমে আসতে পারে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *