দিন দর্পণ, কলকাতাঃ ডিজিটাল প্রতারণার শিকার দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে।রাজ্যে বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে সতর্কবার্তা প্রদান করা হচ্ছে মানুষের মধ্যে।সম্প্রতি গত কয়েকদিন ধরেই মোবাইলে ফোন করলেই কোভিডের মতো সতর্কমূলক বার্তার রিংটোন শোনা যাচ্ছে।তাতে বাংলা এবং হিন্দি ভাষায় বলা হচ্ছে, কোনও অজানা নম্বর থেকে পুলিশ, সিবিআই অথবা কাস্টমসের নাম করে কোথাও থেকে ভিডিও কল আসলে ফোনটি কোনভাবেই ধরবেন না।এবিষয়ে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে বিশদ জানতে টোল ফ্রি নম্বর ১৯৩০-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের এই উদ্যোগের দ্বারা যেমন মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে তেমনই একাধারে মানুষের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশও সৃষ্টি হচ্ছে।বিষয়টি নিয়ে চলতি পথে এবং নিত্যদিনের আনাগোনায় ব্যপক চর্চা শুরু হয়েছে।এই সাইবার প্রতারণা নিয়ে সাইবার ক্রাইম বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রতারকরা নিজেদের দিল্লি বা মুম্বইয়ের সাইবার বিভাগ বা কাস্টমসের অফিসার পরিচয় দিয়ে অজানা অচেনা নম্বর থেকে ফোন করে গ্রাহকদের নানাভাবে ফাঁসাচ্ছে।সর্বসান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।তাদের থেকে ব্যাঙ্ক বা আধার,প্যানের ডিটেলস চেয়ে নেওয়া হচ্ছে অথবা ভয় দেখিয়ে বলা হচ্ছে যে তাদের অনেক ভুয়ো অ্যাকাউন্ট ধরা পড়েছে বা তারা বেনামে অজস্র সিমকার্ড রেখে প্রতারণা করছে।এমনকী ওটিপি নম্বর জেনে নিয়েও প্রতারণা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।গ্রাহকরা বিশ্বাস না করলে তাদের আরবিআই বা কাস্টমসের স্ট্যাপ দেওয়া ভুয়ো সরকারি নথি দেখিয়ে বিশ্বাস করানো হচ্ছে।এরপর চেয়ে নেওয়া হচ্ছে তাদের জরুরি ও ব্যক্তিগত তথ্য।পরিচয় পত্র, ব্যাঙ্ক, আধারের ডিটেলস নিয়েই প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হচ্ছে গ্রাহকদের।
সম্প্রতি কয়েকদিন আগে কলকাতা শহরে ডিজিটাল প্রতারণার শিকার হন এক বৃদ্ধ দম্পতি।ঘটনাটি ঘটে বাগুইআটি থানা এলাকায়।হাউস অ্যারেস্টের হুমকি দেওয়া হয়।তারপর অনলাইনে সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।প্রতারিত ওই ব্যক্তি বিশ্বরূপ ঘোষ সেলস ট্যাক্সের প্রাক্তন অফিসার।ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নেমেছে পুলিশের সাইবার ক্রাইম দফতর।পুলিশের পক্ষ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশের মধ্যে সাইবার প্রতারণার শীর্ষে রয়েছে কলকাতা।চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত এই শহরে প্রায় ৭১ লক্ষ বার সাইবার প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে।তাতে পা দিয়ে বহু মানুষ তাঁদের সর্বস্বান্ত হয়েছেন।তবে দিনদিন এই সংখ্যা আরও বেড়ে চলেছে।যে কারণে এবার মোবাইলের মাধ্যমে জনগণের কাছে বাড়তি সতর্কবার্তা পৌঁছানোর উদ্দ্যোগ নিয়েছে সরকার।
