‘এক দেশ,এক ভোট’ বিলের বিরোধিতায় তীব্র বিক্ষোভ


দিন দর্পণ, নয়াদিল্লিঃ মঙ্গলবার শীতকালীন অধিবেশনে লোকসভায় পেশ করা হল ‘এক দেশ, এক ভোট’ বিল।এই বিল পাশ করার পরেই এর তীব্র বিরোধিতায় গর্জে উঠল বিরোধী রাজনৈতিক শিবির।দুপুর ১২টায় লোকসভায় এই বিল পেশ করেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুনরাম মেঘওয়াল।বিলটি সংবিধানের মূল কাঠামোর বিরোধী বলে সরব হন কংগ্রেস সাংসদ মণীশ তিওয়ারি।তিনি বলেন, এই বিলটি অসাংবিধানিক, দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর পরিপন্থী।ভারত হলো ইউনিয়ন অফ স্টেটস।সংবিধান তাই বলছে।এই আদর্শকে ধ্বংস করার কোনও অধিকার নেই এই সরকারের।পাশাপাশি তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, এক ব্যক্তির স্বার্থরক্ষার লক্ষ্যে অন্যায়ভাবে এই নীতি চালুর চেষ্টা চলছে।এই বিলটি সংবিধান বিরোধী।তিনি বলেন, রাজ্য বিধানসভার মেয়াদ ছাঁটার আগে জনমতকে অগ্রাহ্য করা যায় না।রাজ্য বিধানসভা কোনওভাবেই কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ নয়।এই বিল দুটির মাধ্যমে রাজ্য বিধানসভাগুলির স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।আজীবন একটা দল সরকার চালিয়ে যাবে এটা হতে পারে না। এটা নির্বাচনী সংস্কার নয়।

এই বিল পাশ হওয়ায় তীব্র বিরোধীতা জানিয়েছে ইন্ডিয়া জোট।এই বিল এখনই বাতিল করার দাবি জানিয়েছে তাঁরা।বিরোধীদের অভিযোগ, দেশের গণতন্ত্র এবং সংবিধানের ওপর সরাসরি আঘাত করছে এই বিল।সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।বিরোধীদের এই দাবি অবশ্য পাত্তা দেননি কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল।তিনি মঙ্গলবার নির্ধারিত সময়ে লোকসভায় এই বিল পেশ করে তাঁর উপকারিতা ব্যাখ্যা করেছেন।কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কথায়, দেশের নির্বাচনী পদ্ধতি সংস্কারের জন্য এই পরিবর্তন আবশ্যিক।

লোকসভা এবং সব বিধানসভার ভোট একত্রে করতে সংবিধানের ৮৩ এবং ১৭২ নম্বর অনুচ্ছেদের সংশোধন করা হবে।সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী ৪৭টি দলের মধ্যে ৩২টি এক দেশ এক ভোটের পক্ষে সায় দিয়েছে।লোকসভা এবং রাজ্যসভায় এখন বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে।তবে সংসদের দুই কক্ষে পাশ করালেই হবে না, দেশের দুই-তৃতীয়াংশ রাজ্যের বিধানসভারও সম্মতি প্রয়োজন নয়া ব্যবস্থার পক্ষে।মোদী সরকার ২০২৯ সালে নির্বাচনের এই নয়া ব্যবস্থা কার্যকর করার কথা বিবেচনা করছে।তবে বিল সংসদে পাশ হলেও তা কার্যকর হতে এখনও অনেকটা সময় লাগতে পারে।যদি কোনও পরিবর্তন বা সংশোধনী ছাড়া বিলগুলি সংসদে পাশ হয়ে যায়, তা হলে ‘এক দেশ, এক ভোট’ ২০৩৪ সাল থেকে কার্যকর করা যেতে পারে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *