দিন দর্পণ, কলকাতাঃ মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে বুধবার শোকজ করা হয়।তিন দিনের মধ্যে তাকে শোকজ-এর দিতে বলা হয়েছিল।সেই সঙ্গে এবার শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির স্বচ্ছতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিলেন।মুখ্যমন্ত্রীর ধমক খেয়ে শুক্রবার সকালে বিধানসভায় গিয়ে জবাব দেন তিনি।এক পাতার শোকজের জবাবে চারপাতার চিঠি দিয়েছেন তিনি।দুঃখপ্রকাশও করেন।এর পরই বেরিয়ে ফের বুঝিয়ে দেন, তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরেননি।তিনি বলেন, আমি বিভিন্ন বিষয় বারবার শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়েছি।দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, রাজ্য নেতৃত্বকে সংগঠনের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানিয়েছি।কিন্তু কোনও লাভ হয়নি।তাতে হতাশ হয়ে পড়েছিলাম।তিনি আরও বলেন, বিধায়ক অপূর্ব সরকার এবং রবিউল আলম চৌধুরী পঞ্চায়েত টিকিট দেওয়ার জন্য টাকা নিয়েছেন।মলয় ঘটককে একাধিকবার অভিযোগ জানালেও পদক্ষেপ হয়নি।
দলের একাংশের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলার জন্য শোকজ করেছিল তৃণমূলের বিধানসভার শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি।হুমায়ুনের কথায়, মুর্শিদাবাদের গ্রামীণ এলাকার কৃষক পরিবারের ছেলে।আমরা গ্রামের বিধায়করা বললে ডিসিপ্লিনারি কমিটি ব্যবস্থা নেয়।আর যাঁরা ভবানীপুর, বিশেষত কলকাতার এলাকার নেতাদের জন্য অন্য নিয়ম।শুধু তিনি একা নন, দলের গ্রামীণ বিধায়করাও বঞ্চনার শিকার বলেও দাবি করেন তিনি।মুর্শিদাবাদের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এই দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে লড়াই হবে।হুমায়ুন বলেন, তৃণমূলে থেকেই এই লড়াই হবে।বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করেছেন।এ ব্যাপারে কোনও কথা হয়েছে কিনা জানতে চাওয়ায় ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক বলেন, আমি কাউকে ভয় পাই না।আমিও খালি হাতে ঘুরি না, আক্রমণ করতে এলে সে বেঁচে ফিরবে কি না সন্দেহ আছে।
ঘটনার সূত্রপাত, সম্প্রতি কসবার গুলি কাণ্ডের পর রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপ মুখ্যমন্ত্রী করার দাবি জানিয়েছিলেন হুমায়ুন।একই সঙ্গে দলের একাংশ নেতার বিরুদ্ধেও প্রকাশ্যে মুখ খুলেছিলেন।হুমায়ুন বলেছিলেন, অন্যায় হলে আমাকে তো বলতেই হবে।আমি কাউকে ভয় ডর করি না।এমনকী মমতার ঘনিষ্ঠরা দলনেত্রীর ভাল চান না বলেও প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন তিনি।শোকজের পরও নিজের বক্তব্যে অনড় থেকে হুমায়ুন বলেছিলেন, হক কথা বলার জন্য দল শোকজ করলে করবে, এর আগে তো ২০১৫ সালে আমাকে বিনা নোটিসে ৬ বছরের জন্য শোকজ করে দেওয়া হয়েছিল।এবারে তাও নোটিস দেওয়া হয়েছে। এবার দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুর্শিদাবাদ থেকে লড়াইয়ের ডাক দিলেন। যার জেরে হুমায়ুন, ফের শোকজের মুখে পড়তে পারেন বলেও মনে করছেন দলের অনেকে।
