দিন দর্পণ, নয়াদিল্লিঃ কালো ধোঁয়ায় ভরে গেছে রাজধানী শহর। সময় যত গড়াচ্ছে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি উন্নত হওয়া তো দূর, অবনতির দিকে যাচ্ছে। কিছুতেই বাগে আনা যাচ্ছে না দূষণ। ইতিমধ্যে বায়ু দূষণের সূচক চারশো ছাড়িয়ে গেছে বলে খবর। এমন আবহে সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি স্কুল গুলিকে বিশেষ নির্দেশ বিজেপি সরকারের। মঙ্গলবার পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যতদিন না পুরোপুরি দূষণ কমছে ততদিন হাইব্রিড মডেলে চলবে দিল্লির সমস্ত স্কুল। শুধু অনলাইন নয় স্কুলেও যাতে পড়ুয়ারা গিয়ে ক্লাস করতে পারে সে ব্যবস্থাও করতে হবে। জানা গেছে, কেন্দ্রের দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ বা সিএকিউএম দূষণ পরিস্থিতি নিয়ে গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছে। তারপরই অনলাইন ও অফলাইন দুই সিস্টেমেই স্কুলে পঠনপাঠন চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অনেকের মনেই প্রশ্ন আসবে কেন এত বেশি পরিমানে বেড়ে চলেছে দূষণ !
প্রতি বছর শীতের আগে দিল্লির দূষণের মাত্রা খুবই ভয়াবহ আকার নেয়।নভেম্বর মাসের শুরুর দিক থেকেই দিল্লি এবং তার আসেপাশের রাজ্যগুলিতে দূষণের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে।এছাড়াও দিল্লির পাশাপাশি কলকাতা, হাওড়ার দূষণের মাত্রা বেড়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, শীতের বাতাস গ্রীষ্মের বাতাসের চেয়ে অনেক বেশি ঘন। গরমের সময় বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তর শীতের তুলায় উষ্ণ এবং হালকা থাকে। ফলে বায়ুকে উপরে দিকে সহজে উঠতে সাহায্য করে। এর ফলে দূষণ কণাগুলি মাটি থেকে দূরে চলে যায়।তবে শীতকালে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কাছাকাছি বাতাস ঘন এবং শীতল থাকে। উষ্ণ বায়ু শীতল ওই বাতাসকে আটকে রাখে। যা একটি আস্তরণের মতো তৈরি করে।বায়ুর উল্লম্ব মিশ্রণ এই স্তরের মধ্যে ঘটে। যার জেরে দূষণকারী কণা বায়ুমণ্ডলে সহজে ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়া এবং কুয়াশাকে একত্রিত করে একটি ধোঁয়াশা পরিবেশ তৈরি করে। এই ধোঁয়াশা বিপজ্জনক বলে জানিয়েছেন তারা। এতে শুধু দৃশ্যমান্যতাকে বাধা দেয় না, সেই সঙ্গে শ্বাস নেওয়ার ক্ষেত্রেও তৈরি করে প্রতিবন্ধকতা। এই সময় বাতাসের গতি এত কম থাকে যে, তাতে দূষিত বাতাস দীর্ঘ সময় ধরে বায়ুর নিম্ন স্তরে থাকতে পারে।
দিল্লির দূষণের পিছনের বেশ অনেকটাই মানুষের নিজস্ব হাত রয়েছে।শীতকালের সময়ই দূষণ বারার কারণ হচ্ছে দিওয়ালি, ছট্ পুজোর সময় আতসবাজি পোড়ানো ও খড় পোড়ানো।দিল্লি সরকার আতসবাজি বিক্রি ও ফাটানোর ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ জারি করা সত্বেও তা মানা হয় না বলে জানা যায়।পরিবেশবিদরা এই বিধিনিষেধ যথেষ্ট নয় বলে যানিয়েছেন।দূষণ নিয়ন্ত্রন করতে অনেক অফিস, স্কুল, কলেজ অনলাইন করা হয়েছিল।সেগুলি আসতে আসতে হাইব্রিড মডেলে চালানো হবে বলে যানানো হয়।
