দিন দর্পণ, কলকাতাঃ কলকাতায় ইট, কাঠ, পাথরের মাঝেও এক অবাধ ফুসফুস যেমন গড়ের মাঠ, ঠিক তেমনি প্রকৃতির এক অন্যতম নিদর্শন হল আলিপুর চিড়িয়াখানা। যা প্রকৃতির সৌন্দর্য্যকে মানুষের সাথে একত্রিত করে।আর সেই প্রকৃতির নিদর্শন এবার পা রেখেছে ১৫০ তম বছরে।সেই উপলক্ষ্যেই সাজো সাজো রব চিড়িয়াখানা প্রাঙ্গনে।১৫০ বছরের পুরানো এই চিড়িয়াখানার জন্মদিনে নতুনভাবে তৈরি হচ্ছে মূল প্রবেশদ্বার।প্রায় দুইতলা সমান উঁচু এই নয়া গেট।তার উপরে থাকছে হাতির মাথার একটি অবয়ব। এবং সঙ্গে স্লাইডিং গেট।
দর্শকদের কাছে চিড়িয়াখানার শোভা এবং আকর্ষণ বাড়াতে এসেছে বিভিন্ন প্রজাতির নতুন পশুপাখি। বাঘ, সিংহ, হাতি, নেকড়ে, কালো ময়ূর, সাদা ময়ূর, শিম্পাঞ্জি, কুমির, অ্যানাকোন্ডা কী নেই এখানে! কিন্তু এরই মধ্যে নতুন কিছু আকর্ষণ হল মাউস ডিয়ার, মালায়ান টাপি সহ আরও অনেক কিছু । যা চলতি বছরেই আনা হয়েছে এই চিড়িয়াখানায়। তবে জানা গিয়েছে আগামী এক বছরে চিড়িয়াখানায় আরও নতুন অতিথির আগমন ঘটবে। যেমন, আফ্রিকান সিংহ, গ্রিণ অ্যানাকোন্ডা, সিল প্রভৃতি। তবে আকর্ষণের তালিকা থেকে বাদ নেই পাখিরালয়ও।এতদিন ধরে পাখির খাঁচার বাইরে ভিড় জমিয়ে এসেছেন সকল দর্শনার্থীরা।তবে এবার সরাসরি প্রবেশ করা যাবে খাঁচার ভিতরেই।দর্শনার্থীরা থাকবে খাঁচায় আর পাখিরা থাকবে বাইরে।সেখানে দেখা মিলবে একাধিক প্রজাতির পাখির।মাথার উপরে পাখিরা উড়ে বেড়াবে।খুব কাছ থেকে পাখি দেখার সুযোগ থাকবে।এমনকি খাঁচায় রাখা হবে জলজ পাখিও।তার জন্য জলাশয়েরও ব্যবস্থা রয়েছে।চলতি শীতের মরশুমে এমনই চমকপ্রদ উদ্দ্যোগ নিয়েছে আলিপুর চিড়িয়াখানা।
আসুন এবার জেনে নিই এই ঐতিহ্যময় আলিপুর চিড়িয়াখানার অভাবনীয় কিছু তথ্য।উনিশ শতকের মাঝামাঝি কলকাতায় চিড়িয়াখানা স্থাপনের ভাবনা শুরু হয়।এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৭৫ সালে। রাজা সপ্তম এডওয়ার্ড অর্থাৎ প্রিন্স অব ওয়েলস ১৮৭৬ সালে ভ্রমণের সময় এটি উদ্বোধন করেন।এবং ১৮৭৬ সালে ৬ই মে আম জনতার জন্য খুলে দেওয়া হয় চিড়িয়াখানার দরজা। জানা যায়, ঔপনিবেশিক বাংলার একমাত্র চিড়িয়াখানা ছিল ব্যারাকপুরে। তা ছিল লন্ডন পশুপালার থেকেও প্রাচীন।এবং সেখান থেকেই স্থানান্তরিত করা হয় বেশ কিছু পশু।ভারতীয়দের মধ্যে রাজা রাজেন্দ্র মল্লিক চিড়িয়াখানার পশুদের প্রথম আবাস গৃহ মল্লিক হাউস তৈরিতে দান করেন।যা দিয়েই একে একে সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে এই অভিনব আলিপুর চিড়িয়াখানা।
