বিশ্বের প্রাচীনতম বটবৃক্ষ


দিন  দর্পণ, হাওড়াঃ ২৭০ বছরের পুরনো এই বটবৃক্ষ। যা কিনা বিশ্বের দীর্ঘ আচ্ছাদিত গাছগুলির মধ্যে একটি।জানেন কি এই গাছটি বর্তমানে কোথায় রয়েছে।বর্তমানে গাছটি হাওড়ার শিবপুর আচার্য্য জগদীশ চন্দ্র বোস উদ্ভিদ উদ্যানে অবস্থান করছে।এখন সেই বটগাছ ৪.৮৫ একর জমি নিয়ে অবস্থিত।শোনা যায় একটি খেজুর গাছের ওপর এই বট গাছের বীজ পড়েছিল।সেখান থেকেই বট গাছটির জন্ম। ১৮৬৪ এবং ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দের প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে বটগাছটির কতকগুলি প্রধান শাখা ভেঙে যায় ও ছত্রাক দ্বারা আক্রান্ত হয়।বটগাছের প্রধান কান্ডটি নষ্ট হয়ে গেলে ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে সেটি কেটে ফেলা হয়।যদিও মূল কান্ডটি না থাকলেও আশ্চর্যজনকভাবে গাছটি পরিপূর্ণ সতেজ ভাবে বেঁচে আছে।

১৯৪৮ সালে গাছটি গিনিজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে জায়গা করে নেয় বিশ্বের বৃহত্তম বটগাছ হিসেবে।গাছটির পরিধি ৩৩০ মিটারের বেশি।গাছটির প্রধান কান্ডের গোড়ার পরিধি ছিল ৫১ ফুট।গাছটিতে ৪২০০ টি মূল রয়েছে। উচ্চতার দিক থেকে গাছটি ২৫-২৬ মিটার।২০২০ খ্রিস্টাব্দের ২০ মে পশ্চিমবঙ্গে ঘটা আমফান ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু ভারতীয় উদ্ভিদ উদ্যানের বহু দেশি- বিদেশি দুষ্প্রাপ্য গাছ, ফুল, পাখির বাসা সমেত ২৭০ বছরের পুরনো গিনেস বুক খ্যাত দ্য গ্রেট ব্যানিয়ন ট্রি বা বিশাল বটবৃক্ষও এই ঝড়ে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

বিখ্যাত জাপানি চিত্রপরিচালক আকিরা কুরোসাওয়া কলকাতায় এই বটবৃক্ষটি দেখতে আসেন এবং এই বৃক্ষের ব্যাপ্তি দেখে সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র নির্মাণের দক্ষতাকে দ্য গ্রেট ব্যানিয়ান ট্রির সঙ্গে তুলনা করেন।২০০৪ খ্রিস্টাধে প্রতিষ্ঠিত অনলাইন আর্ট গ্যালারী গ্রেট ব্যানিয়ান আর্ট এই বটবৃক্ষটির নামানুসারে তাদের সংস্থার নামকরণ করে।এই নামের মাধ্যমে তারা তাদের সংস্থার চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গিকে দ্য গ্রেট ব্যানিয়ান ট্রির মতো গভীর, বিস্তৃত ও সতেজতার প্রতীক রূপে তুলে ধরেছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *