দূষণের দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে দিল্লি


দিন দর্পণ, নয়াদিল্লিঃ বেশ কয়েকদিন থেকেই দিল্লিতে দূষণ অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে।কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেছে দিল্লি। সরকারের তরফ থেকে বেশ কিছু বিজ্ঞপ্তি জানিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।দিল্লির সমস্ত প্রাথমিক স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত প্রাথমিক স্কুল অনলাইনের মাধ্যমে চলবে।ঘন কুয়াশার কারণে শনিবার ভোরে উত্তরপ্রদেশের বিজনৌরে দেরাদুন-নৈনিতাল জাতীয় সড়কে পথ দুর্ঘটনায় এক নবদম্পতিসহ অন্তত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।একটি দ্রুতগামী গাড়ি কুয়াশায় রাস্তা ভালোভাবে না দেখতে পেয়ে অটোকে ধাক্কা মারে।ঝাড়খণ্ডে বিয়ে সেরে এক নববিবাহিত দম্পতি গাড়িতে বিজনৌরের ধামপুর শহরে ফিরছিলেন।৭৪ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর তাঁদের গাড়িটি একটি টেম্পোকে সজোরে ধাক্কা মারে।

১৫ই নভেম্বর থেকে দিল্লির সমস্ত নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।দূষণের মাত্রা এতই বেশি যার কারণে তাজমহল কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে।বহু পর্যটক হতাশ হয়েছেন তাজমহল না দেখতে পেয়ে।তারা এক ঝলক পর্যন্ত দেখতে পাননি কুয়াশার জেড়ে।দূষণের কারণে দিল্লি থেকে বিমানবন্দরের বিমান পরিষেবা ব্যহত হয়েছে।দূষণের জেড়ে দিল্লিকে বিশ্বের দ্বিতীয় শহর বিবেচিত করা হয়।শনিবার সকালে দিল্লির বাতাসের গুণগত মান ছিল ৪৫৭।যা সাধারণের থেকে অনেকটাই বেশি। গত মাসের শেষের দিক থেকেই শীতের আমেজ পড়তেই এই কুয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের কৃষি জমিতে নাড়া (ফসলের গোড়া)আর খড়বিচালি পোড়ানোর কারণেই রাজধানীতে দিল্লিতে দূষণ মারাত্মক আকার নিতে থাকে।

দিল্লির বাতাসের এরকম গুণমাণের কারণে মানুষের মধ্যে শ্বাসকষ্ট অতিরিক্ত মাত্রায় বৃদ্ধি পাচ্ছে।বায়ু দূষণ মানব স্বাস্থ্যের উপর তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী উভয় প্রভাব ফেলে।  প্রধানত শরীরের শ্বাসযন্ত্র এবং কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমকে প্রভাবিত করে। শিশু এবং বয়স্কদের উপরে এর প্রভাব সব থেকে বেশি হয়। যেমন শ্বাস নিতে অসুবিধা, শ্বাসকষ্ট, কাশি, হাঁপানি এবং হৃদরোগ, ফুসফুসের ক্যান্সার, স্ট্রোক।শিশুদের মধ্যে তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কাইটিস, হৃদরোগকে আরও বাড়িয়ে দেয় এবং হাঁপানির আক্রমণ।

এই বছরে প্রায় প্রতিদিনই দিল্লির বাতাসের একিউআইয়ের পরিমাণ থাকছে ৪৫০-র বেশি।বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, পরিস্থিতির বদল না হলে সমস্ত রেকর্ড ভেঙে গিয়ে একিউআই ৫০০-তে পৌঁছে যাবে।সেক্ষেত্রে রাজধানীতে শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা মারাত্মক হারে বেড়ে যেতে পারে।ইতিমধ্যেই সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি স্কুলকে শীতের ছুটি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল সরকার।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *