আশিক এলাহী, 29.02.24 সময়- 01.46
দিন দর্পণ ডিজিটাল ডেস্কঃ
বেলা 12টা 39 মিনিটে ভবানীভবনে আনা হল শেখ শাহাজাহানকে৷ এখানেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে৷ মূলত ন্যাজাট থানায় ইডির আধিকারিকদের অভিযোগের ভিত্তিতে পঞ্চান্ন দিন পর ছাপ্পান্ন দিনের মাথায় মিনাখাঁর বামনপুকুর অঞ্চল থেকে বুধবার রাতে গ্রেফতার করা হয় সন্দেশখালির বেতাজবাদশা শেখ শাহাজাহানকে৷
বৃহস্পতিবার ভোর রাতে তাকে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে নিয়ে আসা হয় বসিরহাট মহকুমা আদালতে৷ সেখানে লকআপে রাখা হয়৷ তারপর তাকে পেশ করা হয় বসিরহাট মহকুমা আদালতে সকাল দশটা পঞ্চাশ মিনিটে৷ মেরে কেটে পনেরো থেকে কুড়ি মিনিট এজলাসে ছিলেন শাহাজাহান৷ তাতেই শেষ হয়ে যায় সওয়াল জবাব৷ এনিয়ে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, হাই প্রোফাইল শাহাজাহানের নিরাপত্তার স্বার্থেই এত কম সময়ের মধ্যেই শুনানি পর্ব শেষ হয়ে গিয়েছে৷ বিচারক দশ দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন৷ প্রথমে তাকে চোদ্দো দিনের হেপাজত চাওয়া হয়েছিলো৷ আদালত কক্ষে ঢোকার সময় হাত নেড়ে কিছু বোঝানোর চেষ্টা করেন শেখ শাহাজাহান৷ পরে আবারও সেখান থেকে তিনি কোর্ট লকআপে ফিরে যান৷ এদিন সাদা রঙের ধবধবে পোশাকেই আদালতের লকআপ থেকে বেরতে দেখা যায় শেখ শাহজাহানকে৷
জানা গিয়েছে, পুলিশের তরফে ভারতীয় দণ্ডবিধির
১৪৭ ধারা-(অশান্তি ছড়ানো)
১৪৮ ধারা- প্রাণঘাতী অস্ত্র নিয়ে হামলা, অশান্তি ছড়ানো,
১৪৯ ধারা- অবৈধ জমায়েত।
৩০৭ ধারা (পরে যোগ হয়)- খুনের চেষ্টা।
৩৪১ ধারা- বলপূর্বক আটকে রাখা।
৩৪২ ধারা- অবৈধ অনুপ্রবেশ।
৩৫৩ ধারা- সরকারি কর্মীদের কাজে বাধাদান।
৩২৩ ধারা- মারধরের জেরে জখম।
১৮৬ ধারা- সরকারি কর্মীকে সরকারি কাজে বাধাদান।
৩৭৯ ধারা- চুরি।
৪২৭ ধারা- সম্পত্তি নষ্ট।
৫০৬ ধারা- হুমকি।
৩৩৩ ধারা (পরে যোগ হয়)- সরকারি কর্মীকে কাজে বাধাদান ও আক্রমণের জেরে গুরুতর জখম।
৩৪- অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র।
৩২৫ ধারা- মারধরের জেরে গুরুতর জখম।
৩৯২ ধারা- লুঠ করা।
৩৯৫ ধারা- ডাকাতি করা।
৩৯৭ ধারা- ডাকাতি করতে এসে মারধর করে জখম।
৩২৬ ধারা- অশান্তি সৃষ্টি
৪৪০ ধারা- খুনের বা ব্যাপক মারধর করে জখম করার উদ্দেশ্যে লোক জড়ো করা।
এছাড়া সরকারি সম্পত্তি নষ্টের আইনের অধীনে তিনটি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তবে আদালত চত্বরে তাঁর হাঁটাচলা দেখে রাজনৈতিক মহলের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে, রাজ্য পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পরেও কীভাবে এত আত্মবিশ্বাসী ছিলেন শেখ শাহজাহান ? তাহলে কি বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কথাই ঠিক ? শেখ শাহজাহানকে পাঁচতারা হোটেলের সুযোগ-সুবিধে দেওয়া হবে পুলিশি হেফাজতে ?
এদিকে তাঁর গ্রেফতারির পরই সন্দেশখালিজুড়ে বেড়েছে পুলিশি নিরাপত্তা৷
উল্লেখ্য, গত 5 জানুয়ারি থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলো শাহাজাহান৷ তাঁকে গ্রেফতার করা নিয়ে বিরোধীদের চাপের মুখে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এদিকে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, আদালতের স্থগিতাদেশের জন্যই শেখ শাহজাহানকে গ্রেফতার করা যাচ্ছে না৷
এখানে ইডির ভূমিকা প্রসঙ্গে এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) সুপ্রতিম সরকার বলেন, “সংবাদমাধ্যমে, চ্যানেলে বলা হয়েছে, পুলিশ ইচ্ছাকৃত শেখ শাহজাহানকে গ্রেফতার করছে না৷ আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই এটা ভুল, অপপ্রচার৷ আমাদের আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল৷ দিন দুয়েক আগে মাননীয় উচ্চ আদালতের তরফে স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয় যে, গ্রেফতারিতে কোনও বিধিনিষেধ নেই৷ তারপর আমরা জোরকদমে তল্লাশি শুরু করি৷ গতরাতে মিনাখাঁ থানার বামনপুকুর থেকে শেখ শাহজাহানকে গ্রেফতার করি৷” এরপর তিনি প্রশ্ন করেন, “আমাদের উপর আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল ঠিকই, ইডির উপর ছিল না৷ তারা কেন শেখ শাহজাহানকে গ্রেফতার করতে উদ্যোগী হননি ? সেই প্রশ্নটাও প্রাসঙ্গিক৷”
