SUKANTA MAHUMDER- সন্দেশখালিতে মহিলা নির্যাতনের  তদন্তে কমিটি গঠন নাড্ডার


আশিক এলাহি, ১৫.০২.২৪ সময়ঃ ০৪.৩২

দিন দর্পণ ডিজিটাল ডেস্কঃ ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে সন্দেশখালি৷ অশান্তি কমার বদলে আরও যেন বেড়েই চলেছে৷ গ্রামের মহিলাদের উপর অত্যাচারের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জগত্ প্রকাশ নাড্ডা৷ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে এই নিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিজেপি৷ উল্লেখ্য, বুধবার সন্দেশখালিতে যায় বিজেপির এক প্রতিনিধি দল৷ তাদের দাবি ছিলো, শান্তিপূর্ণভাবে এস.পি অফিসে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেবে, দোষীদের না ধরে কেন নিরীহ লোকেদের ধরা হচ্ছে, জানতে চাইবেন তারা৷ কিন্তু এসপি অফিস চত্বরে ঢুকতেই চলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ইটবৃষ্টি ফাটানো হয় কাদানে গ্যাসের সেল পুলিশের লাঠির ঘায়ে একাধিক বিজেপির নেতা কর্মী সমর্থক আহত হন। বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়।

এরপর তাদের নিঃস্বার্থে মুক্তির দাবিতে সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্বে ধর্ণা মঞ্চ শুরু হয়। বেশ কিছু সময় পর ধর্না মঞ্চে যোগ দেন বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের ঠাকুরনগরের বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর সহ বেশ কিছু বিধায়ক, তারা গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি ধর্না মঞ্চে বসে পড়েন। এরপর পুলিশ ধর্ণা মঞ্চ তুলে নেওয়ার জন্য মাইকিং করতে থাকে।

তারপর পুলিশ ধর্না মঞ্চের দিকে এগিয়ে গিয়ে একে একে বিজেপির নেতা কর্মীদের মঞ্চ থেকে চ্যাং দোলা করে গাড়িতে তোলা শুরু করে। বাদ যাননি বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং মহিলা সমর্থকরাও। এরপর গ্রেফতার হওয়া বিজেপি নেতা কর্মীদের থানায় না নিয়ে গিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বসিরহাট স্টেডিয়ামে। সেখানে আটক হওয়া সুকান্ত মজুমদার সহ ১৭ জনকে ব্যাক্তিগত বন্ডে জামিনে মুক্তি দেয়।   

এরপর বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে আনা হয় বসিরহাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে৷

এরপর বসিরহাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের চিকিত্সা পরিষেবা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিজেপির কর্মীরা৷

এই অবস্থায় বিজেপি সভাপতি নাড্ডা একটি ৬ সদস্যের উচ্চস্তরীয় কমিটি গঠন করেছেন৷ সন্দেশখালিতে মহিলাদের উপর অত্যাচার নিয়ে তিনি বলেন, রাজ্য সরকার বোবা,  সব দেখছে৷ সন্দেশখালির ঘটনা ক্রমে মহিলাদের উপর যে অত্যাচারের ছবি প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি একেবারে ভেঙে পড়েছে৷

পাশাপাশি সন্দেশখালিতে মহিলাদের উপর যে যৌন নিপীড়ন, তাঁদের অত্যাচার করা হয়েছে তার তীব্র নিন্দা করেন নাড্ডা। মহিলাদের উপর অত্যাচারকে তিনি ‘হৃদয় বিদারক’ বলে উল্লেখ করেন৷ তাই পুরো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে একটি উচ্চস্তরের সমিতি গঠন করলেন তিনি৷ ছয় সদস্যের এই দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করবে এবং তাঁদের রিপোর্ট কেন্দ্রকে জমা দেবে৷ এই উচ্চস্তরীয় কমিটিতে রয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক, সাংসদ সুনীতা দুগ্গাল, সাংসদ কবিতা পতিদার, সাংসদ সঙ্গীতা যাদব এবং উত্তরপ্রদেশের রাজ্যসভার সাংসদ ব্রিজ লাল। তবে ঠিক কবে তাঁরা রাজ্যে আসবেন, তা এখনও জানা যায়নি৷


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *