বাবন ধুঁয়া, ০৯,০২,২৪ সময়ঃ ০৫,৩৭
দিন দর্পণ ডিজিটাল ডেস্কঃ উত্তর প্রদেশের তাজমহলের কথা তো সকলেই জানেন। তাজমহলের নির্মাণশৈলী তাক লাগিয়ে দেয় সকলকেই। তাজমহল দেখার টানে প্রতি বছরই দেশ বিদেশ থেকে বহু পর্যটক ছুটে আসেন উত্তর প্রদেশের আগ্রায়। তবে জানেন কি উত্তর প্রদেশেই রয়েছে এমন এক মসজিদ যা সোনায় নির্মিত? শুধু নির্মিত বললেই ভুল হবে একটু। এই মসজিদ নির্মাণে এত পরিমাণ সোনা ব্যবহৃত হয়েছে যা এশিয়ার আর অন্য কোনও মসজিদে নেই। সেই মসজিদের নির্মাণকাজ দেখলে চোখ সরাতে পারবেন না। দেশজুড়ে যে ক’টি মসজিদ রয়েছে সেগুলি একাধিক বিশেষ বিশেষ কারণের জন্য বিখ্যাত। ঐতিহ্যের তালিকায় রয়েছে মুঘল আমলে নির্মিত উত্তর প্রদেশের আলিগড়ের জামে মসজিদ। আর পাঁচটা মসজিদের থেকে এটি আলাদা। নির্মাণ শৈলীতে রয়েছে বিশিষ্টতার ছাপ। এই মসজিদের এমন একটি বিশেষত্ব রয়েছে যা এশিয়ার আর কোনও মসজিদে নেই। সবচেয়ে বেশি পরিমাণে সোনা দিয়ে মোড়া এই মসজিদ। আর তার জন্য এই মসজিদের কদরও বিশ্বজোড়া।
মসজিদের গম্বুজ ও মিনারগুলিতে এত বেশি পরিমাণ সোনা রয়েছে যা এশিয়ার অন্য কোনও মসজিদে পাওয়া যায় না। মসজিদটির চমৎকার খোদাই এবং স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন হয়ে আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে। এখানকার স্থাপত্য শৈলী মনে করিয়ে দেয় তাজমহলের কথা। দীর্ঘকাল ধরেই এই মসজিদেই রয়েছে নমাজ পড়ার রীতি। মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, এখানে প্রতিদিন পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ একসঙ্গে বসে নমাজ পড়তে পারেন। মহিলাদের জন্য আলাদাভাবে নমাজ পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ৭৩ জন ওলামা শহিদের কবর এখনও মসজিদের ভেতরে সংরক্ষিত আছে।
মুঘল শাসক মহম্মদ শাহের (১৭১৯-১৭২৮) শাসনামলে কোলের নবাব সাবিত খান ১৭২৪ সালে আপরকোট জামে মসজিদ নির্মাণ শুরু করেন। প্রায় ১২ বছর সময় লেগেছিল মসজিদটির নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হতে। সবচেয়ে উঁচু টাওয়ারটির উচ্চতা প্রায় ২২ ফুট। মসজিদের ভিতরের সামনের অংশ প্রায় ১২৫ ফুট চওড়া এবং দৈর্ঘ্য ১৫০ ফুট। মসজিদটির মোট ১৭টি গম্বুজ রয়েছে। মূল গম্বুজের গোলাকার অংশের উচ্চতা ১১৯ ফুট ও দুই পাশে নির্মিত ছোট গম্বুজের বৃত্তাকার অংশটির উচ্চতা ৯৩ ফুট। মসজিদের চারপাশে নির্মিত চারটি মিনারের প্রতিটি ৩৩ ফুট গোলাকার।
মোট কত পরিমাণ সোনা রয়েছে সে সম্বন্ধে অবশ্য স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় না। কয়েক বছর আগে মসজিদের সবচেয়ে ছোট মিনারটি মেরামত করা হয়। তারপর এর মধ্যে থাকা সোনার বিশুদ্ধতা দু’টি দল আলাদা আলাদ দল পরীক্ষা চালায়, সেই দুই দলই ঘোষণা করেছিল মসজিদ নির্মাণে সর্বোচ্চ মানের খাঁটি সোনা ব্যবহৃত হয়েছে।
