আশিক এলাহি, ০৮,০২,২৪ সময়ঃ ০৩,২৫
দিন দর্পণ ডিজিটাল ডেস্কঃ যে তৃণমূল নেতাদের দাপটে এত দিন ভয়ে শিটিয়ে থাকতো সন্দেশখালির বাসিন্দারা, সেই তৃণমূল নেতাদেরই কিনা মারধর এবং বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হল, আর এই ঘটনা ঘটালো সেই সন্দেশখালির বাসিন্দারাই। যাকে বলে একেবারেই উলট পূরাণ। কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রতিবাদে রাজ্য-কেন্দ্র সংঘাত এখন চরমে উঠেছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মিটিং মিছিল আন্দোলন চলছে। সেই কর্মসূচী ছিলো সন্দেশখালিতেও। সেই কর্মসূচী থেকে ফেরার পথে শাসক দলের নেতা কর্মীদের লক্ষ্য করে চড়াও হন গ্রামবাসীরা। লাঠি, বাঁশ, বেত, ঝাঁটা নিয়ে তাড়া করা হয়, কোল্ড ড্রিংসের বোতল, ইট পাটকেল ছোঁড়া হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কেউ আবার নদীতে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ বাঁচিয়েছেন। এমনকি তৃণমূল নেতাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। তবে এই ঘটনায় আক্রান্তরা বিরোধীদের ওপর দোষ চাপিয়েছে।
সন্দেশখালির বেতাজ বাদশা শেখ শাহাজাহন গত ১ মাস ধরে অধরা। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা তাকে খুজতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। তাদের দেওয়া কড়া নোটিশও কোনো কাজে আসছে না। কোথা শাহাজাহান? এই প্রশ্নটাই যেন ঘুরপাক খাচ্ছে সকলের মনে। এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। তাকে নিয়ে চাপানউতোরের শেষ নেই। বিরোধীরা তো অনেক আগেই ভবিষ্যতবাণী করে দিয়েছে, শেখ শাহজাহান বাংলাদেশ পালিয়েছেন। ২৪ ঘণ্টা ক্যামেরা বন্দি তার পরিবারের সদস্যরা। এই বেতাজ বাদশার লাল চোখের ভয়ে নিজেদের জমি জলাঞ্জলি দিয়েছিলেন গ্রামবাসীরা। সেই মানুষগুলোই এবার সরব হয়েছেন। তারা বলছেন- দূর হঠো, দূর হঠো। আমরা শান্তিপ্রিয় মানুষ, শান্তি চাই, শান্তি চাই। যার জেরে প্রশ্ন উঠে গেল, বেতাজ বাদশা উধাও হতেই কি সন্দেশখালিতে আলগা হতে শুরু করেছে তৃণমূলের ভিত?
