HEMANT AT ASSEMBLY- হেমন্ত গ্রেফতারি ইস্যুতে ইডি’র জবাব তলব আদালতের বিধানসভায় রাজভবনকে তোপ হেমন্তের


বাবন ধুঁয়া, ০৫.০২.২৪ সময়ঃ ০৫.২৬

দিন দর্পণ ডিজিটাল ডেস্কঃ

মহানাটক ঝাড়খণ্ডে! সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের গ্রেফতারি তথা চম্পাই সোরেনের আস্থাভোটকে কেন্দ্র করে রাজ্যের হাওয়া এখন ভারী। এই প্রেক্ষাপটে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) কাছে জবাব তলব করল ঝাড়খণ্ড হাই কোর্ট। কেন গ্রেফতার করা হয়েছে হেমন্ত সোরেনকে, তা কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের কাছে জানতে চেয়েছে আদালত। আগামী চার দিনের মধ্যে লিখিত আকারে জবাব দিতে হবে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে। ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ইডি সেই রিপোর্ট দেবে। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি।

নিজের গ্রেফতারিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রথমে ঝাড়খণ্ড হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেও পরে তা প্রত্যাহার করে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন হেমন্ত। সেখান থেকে মামলা হাই কোর্টে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, আগে উচ্চ আদালতে আবেদন জানাতে হবে হেমন্তকে। তারা উচ্চ আদালতের সাংবিধানিক ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করবে না। তার পর মামলা আবার ঝাড়খণ্ড হাই কোর্টে ফেরত আসে। সোমবার সেই মামলার শুনানি ছিল। আদালত ইডির কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেছে।

এদিকে, গত শুক্রবার রাঁচীর বিশেষ অর্থ তছরুপ প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ) আদালত জেএমএম নেতাকে পাঁচ দিনের ইডি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল। শনিবার হেমন্তের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাঁকে সোমবারের আস্থাভোটে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেয় আদালত। তাঁর দলের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে এ দিন বিধানসভায় যান হেমন্ত। বিতর্কে অংশ নিয়ে গ্রেফতারির নেপথ্যে রাজভবনেরও হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। দেশের রাজনীতির ইতিহাসে কোনও রাজনীতিক হেফাজতে থাকাকালীন আইনসভায় দাঁড়িয়ে বক্তব্য রেখেছেন, তা স্মরণ করতে পারছেন না রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউই।

সে দিক থেকে দেখতে গেলে সোমবার দুপুরে বিরল ঘটনার সাক্ষী থাকল কেবল ঝাড়খণ্ড নয়, গোটা দেশ। এ দিন রাজ্যপাল সিপি রাধাকৃষ্ণণের ভাষণ দিয়ে শুরু হয় বিধানসভার অধিবেশন। বক্তব্য রাখেন হেমন্তের গ্রেফতারির পর দল এবং সরকারের দায়িত্ব সামলানো ঝাড়খণ্ডের নতুন মুখ্যমন্ত্রী চম্পাই সোরেন। তার পরই বক্তব্য রাখতে ওঠেন শিবু সোরেনের পুত্র। নিজের বক্তব্যে হেমন্ত এক দিনে যেমন ইডি এবং বিজেপিকে তোপ দেগেছেন, তেমনই আদিবাসী আবেগেও শান দিতে চেয়েছেন।

হেমন্ত বলেন, ‘৩১ জানুয়ারি রাতে দেশে প্রথম বার এক জন মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেফতার করা হল। তার পরই তাঁর সংযোজন, ‘আমি বিশ্বাস করি রাজভবন এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত।’ সরাসরি নাম না করা হলেও মনে করা হচ্ছে, তাঁর গ্রেফতারির জন্য রাজ্যপালকেই দায়ী করলেন হেমন্ত। বিজেপিকে তোপ দেখে তিনি বলেন, ‘যদি তাদের সাহস থাকে, তবে যে জমি আমার নাম নথিভুক্ত হয়েছে, তার নথি দেখাক। যদি (দুর্নীতি) প্রমাণিত হয়, আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।’

আদিবাসীদের উপর কোনও অত্যাচার এবং অপমান তিনি সহ্য করবেন না বলেও জানিয়ে দেন হেমন্ত। তাঁর কথায়, ‘এরা ভাবে আমাকে জেলে ভরে উদ্দেশ্য সফল হবে। এটা ঝাড়খণ্ড। দেশের এমন রাজ্য, যার প্রতি কোণে আদিবাসী দলিতেরা আছেন। রক্তের বিনিময়ে তাঁরা লড়াই করেছেন। আদিবাসীদের জোর এত কম নয়।’ তিনি না কেঁদে কান্না জমিয়ে রাখছেন বলেও দাবি করেছেন হেমন্ত। তিনি বলেন, ‘এদের কাছে আদিবাসীদের চোখের জলের কোনও দাম নেই।’ রাজনীতির কারবারিদের একাংশ মনে করছেন, লোকসভা ভোটের আগে নিজের আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ক সুরক্ষিত রাখতেই জোরালো এই বার্তা দিলেন হেমন্ত।

—————–


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *