BJP MINORITY STRATEGY- মুসলিম পুরুষদের মন জয়ে বিজেপির ‘কওমি চৌপাল’ কর্মসূচি


বাবন ধুঁয়া, ০৫.০২.২৪ সময়ঃ ০৫.০৩

দিন দর্পণ ডিজিটাল ডেস্কঃ

লোকসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা না হলেও স্ট্র্যাটেজি ঠিক করে সব রাজনৈতিক দলগুলি ঝাঁপিয়ে পড়েছে ময়দানে। বিশেষ করে বলতে হয় শাসক দল বিজেপির কথা। ভোটারদের মন জয়ে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না শীর্ষ নেতৃত্ব। ভোট ব্যাঙ্ক অক্ষুন্ন রাখতে প্রচেষ্টার কসুর নেই পদ্ম শিবিরের। সূত্রের খবর, লোকসভা নির্বাচনের আগে মুসলিম পুরুষদের মন জয়ে বিজেপি নেতৃত্ব আঁটঘাট বেঁধে এবার ময়দানে নামছে।

মুসলিম পুরুষদের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সাফল্যের কাহিনি পৌঁছে দিতে উত্তর প্রদেশে প্রাথমিক ভাবে গ্রামে গ্রামে ‘কওমি চৌপাল’ নামে আলোচনা চক্রের আয়োজন করতে চলেছে গেরুয়া শিবির। লক্ষ্য, মোদি-অমিত শাহ-জেপি নাড্ডাদের দল সম্পর্কে যে বাঁধাধরা মনোভাব রয়েছে মুসলিম সমাজের মধ্যে তা দূর করা। মুসলিম মহিলাদের সমর্থন পাওয়ার লক্ষ্যে ‘সুকরিয়া মোদি ভাইজান’ নামে বিজেপির একটি প্রচারাভিযান চালু রয়েছে। এই প্রচারাভিযানে তিন তালাক রদ, বিনামূল্যে রেশন, আবাস যোজনা, উজ্জ্বলা প্রকল্প, পানীয় জল যোজনার মতো বিষয়গুলোকে জনসমক্ষে তুলে ধরা হচ্ছে। মোদি মুসলিমদের জীবনযাত্রার উন্নয়নে কতটা ভাবনাচিন্তা করেন এবং তার জন্য তিনি কতটা বদ্ধপরিকর সেই প্রচারই চলছে। এবার মুসলিম পুরুষদের কাছে পৌঁছতে শুরু হতে চলেছে ‘কওমি চৌপাল’ কর্মসূচি।

সূত্রের খবর, সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১০ ফেব্রুয়রি থেকে উত্তর প্রদেশের মুজফ্ফরনগররের কাসেরবা গ্রাম থেকে শুরু হবে ওই কর্মসূচি। প্রায় ৪ হাজার ১০০টি গ্রামে এই ধরনের আলোচনা সভা হওয়ার কথা রয়েছে। বিজেপি সূত্রে খবর, যে গ্রামগুলিকে বেছে নেওয়া হয়েছে সেখানকার কোনও প্রবীণ ব্যক্তির বাড়ির দাওয়ায় আয়োজন করা হবে বৈঠকের। সূত্রের খবর, মূলত নরমপন্থী মুসলিমদের পাশে পেতেই উদ্যোগী বিজেপি নেতৃত্ব।

দলীয় সূত্রে খবর, ওই সভাগুলিতে মূলত তুলে ধরা হবে মোদি সরকার কী ভাবে ধর্ম ও জাতের উপরে উঠে গিয়ে গরিবদের জনহিতকর প্রকল্পের সুফল দিতে কাজ করেছে। কী ভাবে মুসলিমরা বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন সেই খতিয়ান তুলে ধরা হবে। ওই এলাকার যে সব মুসলিম পরিবার সুফল পেয়েছে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের তাদেরকেও প্রচারাভিযানের কাজে ব্যবহারের কথা ভাবনাচিন্তা করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত যা পরিকল্পনা তাতে স্থানীয় মানুষের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা, বিশেষ করে যুব সমাজের আশা আকাঙ্খা সমাধানে করা হবে আন্তরিক পদক্ষেপ।

সূত্রের খবর, বিজেপি চেষ্টা করবে পশ্চিম উত্তর প্রদেশের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বাগপত, বুলন্দশহর, বিজনৌর, আমরোহা, রামপুর, কৈরানা, মিরাট, আগরা, আলিগড়, মুজফ্ফরনগরের মতো মুসলিম অধ্যুষিত ২৩টি লোকসভা কেন্দ্রের মুসলিম সমাজের কাছে পৌঁছনোর। উত্তর প্রদেশের ওই অঞ্চলে রয়েছে ২৬টি লোকসভা কেন্দ্র। যার মধ্যে গত লোকসভায় বিজেপি জিতেছিল ১৯টিতে। বাকি সাতটি কেন্দ্র পকেটে পোরে এসপি-বিএসপি জোট।

২০২২ সালে উত্তর প্রদেশের বিধাসনভা নির্বাচনের ফলাফল দেখলে একটা বিষয় স্পষ্ট হয় ওই রাজ্যে বিজেপিকে মুসলিমদের একটা অংশই ভোট দিয়েছেন। না হলে মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলগুলিতে বিজেপির পক্ষে সম্ভব ছিল না ভালো ফল করার। তবে লোকসভা নির্বাচনে মুসলিম ভোটকে সঙ্গে নিয়েই ভালো ফল করতে চায় গেরুয়া শিবির। ওই প্রান্তের প্রত্যেকটি আসন জেতার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে পদ্ম বাহিনী। আর তাই আরও বেশি করে মোদি -শাহ-নাডারা চাইছেন মুসলিম সমাজের কাছে পৌঁছতে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *