GYAN VAPI MOSQUE ROW- জ্ঞানবাপী মসজিদের বেসমেন্টে, হিন্দুদের পুজো করার অনুমতি, রায় বারাণসী আদালতের


বাবন ধুঁয়া, ৩১.০১.২৪ সময়ঃ ০৫.৪০

দিন দর্পণ ডিজিটাল ডেস্কঃ

জ্ঞানবাপী মসজিদ নিয়ে বড় রায় দিল বারাণসী আদালত। বারাণসীর এই মসজিদের অন্দরে সিল করা বেসমেন্ট চত্বরে হিন্দুদের পুজো করার অনুমতি দিল আদালত। রায়ের পর হি¨ুপক্ষের আইনজীবী সুধীর ত্রিপাঠী সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘ আজ আদালত এখানে (মসজিদে) পুজো আয়োজনের ব¨োবস্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে যে কোনও দিন পুজো শুরু করা যেতে পারে।’

জ্ঞানবাপী মসজিদের এএসআই সমীক্ষারিপোর্ট সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। তারপরই হিন্দু পক্ষের দাবি, ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ বিভাগের সমীক্ষাতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে এই মসজিদের অন্দরে ছিল হিন্দু মন্দির। বেশ কিছু হিন্দু মূর্তির ভাঙা অংশ, নানা পুজার্চনার চিহ্নের উল্লেখ করা হয়েছে এএসআহz-র সমীক্ষারিপোর্টে। প্রকাশ করা হয়েছে সেই চিহ্নগুলির ছবিও। এরপরই মসজিদের এই অংশ হিন্দুদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। একইসঙ্গে পুজো করার অনুমতি চেয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় হিন্দু পক্ষ। উজুখানা খোলার দাবি এবং সমীক্ষারû জন্য আবার সুপ্রিম কোর্টেও আবেদন জানানো হয়েছে।

বুধবার এই মামলায় উল্লেখযোগ্য পর্যবেক্ষণ করল বারাণসী আদালত। জ্ঞানবাপী মসজিদের অন্দরে সিল করা বেসমেন্টে এবার থেকে পুজো করতে পারবেন হিন্দুরা। এমনটাই জানিয়েছেন বিচারপতি। সিল করা এই বেসমেন্টকে বলা হচ্ছে ‘ব্যস কা তয়খানা’। হিন্দু পক্ষের আইনজীবী বিষ্ণু শংকর জৈন বলেন, ‘আগামী সাতদিনের মধ্যে জ্ঞানবাপী মসজিদের বেসমেন্টে পুজো শুরু হবে। সকল হিন্দুরাই সেখানে পুজোর অনুমতি পাবেন।’ হিন্দুরা যাতে বিনা কোনও বাধায় এই চত্বরে পুজো করতে পারেন, তার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজন বন্দোবস্ত করার কথা জানিয়েছেন তিনি।

জ্ঞানবাপী মসজিদের এই সিল করা বেসমেন্টে পুজোর অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বেদব্যস পীঠের আচার্য শৈলেন্দ্র কুমার পাঠক। তিনি চেয়েছিলেন, হিন্দুরা যাতে মসজিদের ওই চত্বরে শৃঙ্গার গৌরীর সুযোগ পায়। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই এই নির্দেশ দেয় বারাণসী আদালত। বিচারপতি নদীর সামনে থেকে ব্যস তয়খানায় অর্থাৎ জ্ঞানবাপীর বেসমেন্টে হিন্দুদের যাওয়ার জন্য একটি রাস্তা তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী সাতদিনের মধ্যে যাতে হিন্দুরা পুজো করতে পারেন তার জন্য বারাণসীর জেলাশাসককে প্রয়োজনীয় বন্দোবস্ত করারও নির্দেশ দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। মসজিদের ওই অংশে এবার থেকে পুজো করতে পারবেন হিন্দুরা।

মুসলিম পক্ষের কাছে এটি বড় ধাক্কা তা বলাই বাহুল্য। জ্ঞানবাপী মসজিদের এএসআই সমীক্ষা রিপোর্টকে কার্যত অস্বীকার করেছেম মুসলিমরা। একইসঙ্গে মুসলিম পক্ষের দাবি, হিন্দু মন্দির ভেঙে জ্ঞানবাপী মসজিদ নির্মাণ হয়েছে এ কথাও অসত্য।

এ দিন জ্ঞানবাপী মসজিদের নীচে হিন্দুদের পুজো করার অনুমতি দেন বিচারপতি কৃষ্ণ মোহন পান্ডে। প্রসঙ্গত, বুধবারই ছিল তাঁর কর্মজীবনের শেষ দিন। উল্লেখ্য, বিচারপতি পান্ডেই ১৯৮৩ সালে অযোধ্যার রাম মন্দিরের তালা খোলা ও সেখানে পুজো করার অনুমতি দিয়েছিলেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *