EVM ROW- ইভিএম নির্মাতা সংস্থায়, চারকর্তার বিজেপি-যোগ


বাবন ধুঁয়া, ৩১.০১.২৪ সময়ঃ ০৫.৩৬

দিন দর্পণ, নয়াদিল্লি, বৈদ্যুতিন ভোট যন্ত্র বা ইভিএম নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। বিরোধীরা হামেশায় ইভিএম-এ কারচুপির অভিযোগ তোলেন। এনিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বহুবার নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে। শুধু তাই নয়, ইভিএম-এ কারচুপির অভিযোগ এনে রাজনৈতিক দলগুলি সুপ্রিম কোর্টেও গিয়েছে। তারপরেও বিষয়টির কোনও সুরাহা হয়নি। নির্বাচন কমিশন প্রত্যেকবারই বিরোধী দলগুলির দাবি খারিজ করে জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত দিক থেকে ইভিএম-এ কারচুপি ‘না কে বরাবর’। কিন্তু কমিশনের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি বিরোধীরা। প্রত্যেকবারই তারা নিজেদের দাবিতে অনড় থেকেছে।

এহেন পরিস্তিতিতে আসন্ন লোকসভা নির্বাচন যাতে স্বচ্ছভাবে হয়, সেজন্য সব বুথে ইভিএমের সঙ্গে ভিভিপ্যাট ব্যবহারের দাবি ইতিমধ্যেই তুলেছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সদস্য কংগ্রেস ও তৃণমূল। যদিও দেশের নির্বাচন কমিশন বিরোধীদের দাবি খারিজ করে জানিয়েছে, ইভিএমে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহের উদ্রেক করে, নতুন করে এমন কোনও যুক্তিগ্রাহ্য তথ্য তারা তুলে ধরতে পারেনি।

এই পরিস্থিতিতে লোকসভা ভোটের আগে বিরোধীদের হাতে নতুন করে অস্ত্র তুলে দিতে পারে দেশের নির্বাচন কমিশনকে লেখা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সচিব ইএএস শর্মার লেখা একটি চিঠি। সেই চিঠিতে শর্মা লিখেছেন, কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড বা বিইএল ইভিএম তৈরি ও সরবরাহের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ইভিএমের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে সফটওয়্যার ডেভেলপের কাজ করে থাকে তারা।

অথচ সেই সংস্থায় অন্তত চারজন এমন ব্যক্তি স্বাধীন ডিরেক্টর পদে রয়েছেন, যাদের সঙ্গে বিজেপির সংস্রব ছিল বা আছে। এক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন তুলেছেন শর্মা। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমার এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার এসি পাণ্ডে ও অরুণ গোয়েলকে লেখা চিঠিতে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় আমলা প্রশ্ন তুলেছেন;যেখানে দেশের নির্বাচনের মতো এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সঙ্গে বিইএল যুক্ত, সেখানে একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগ রয়েছে এমন চারজন ব্যক্তিকে কেন ডিরেক্টর পদে রেখে দেওয়া হচ্ছে। এটা গণতন্ত্রের প্রতি অবিচার। ভোটদাতাদের সঙ্গে অন্যায়।

এক্ষেত্রে বিইএলের দৈনন্দিন কাজকর্মের উপর ওই রাজনৈতিক দলের নজর রাখার সম্ভাবনা থেকে যায়। তাঁর দাবি, এর আগেও তিনি এই বিষয়টি কমিশনের নজরে এনেছিলেন। কিন্তু তাতেও কোনও কাজ হয়নি। লোকসভা ভোটের আগে বিষয়টি আবার সামনে এনে তিনি চেয়েছেন যাতে নির্বাচন কমিশন এনিয়ে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করে। বিরোধীরা স্বাভাবিকভাবেই এই প্রসঙ্গ তুলে কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করেছে। আগামী দিনে ‘ইন্ডিয়া’ শিবির আবারও এনিয়ে কোনও বড়সড় পদক্ষেপ করে কি না, সে দিকে নজর রয়েছে সব পক্ষের।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *