INSULT TO NEWS PAPERS- অভিনব পন্থায় সংবাদমাধ্যমকে কটূক্তির আবদার


বাবন ধুঁয়া, ১৫.০১.২৪ সময়ঃ ৩.৫৬

দিন দর্পণ ডিজিটাল ডেস্কঃ সংবাদ মাধ্যমকে গালিগালাজের অনুমতি চেয়ে সরকারি আধকিারিককে চিঠি। মাইকে চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে দুই ঘণ্টা ধরে সংবাদপত্রকে কটূ কথা বলার অনুমতি চেয়ে এসডিএমকে চিঠি দিয়েছেন উত্তর প্রদেশের প্রতাপগড়ের এক ব্যক্তি। ব্যক্তির এই আজব দাবিতে শোরগোল যোগী রাজ্যে। ব্যক্তির অভিযোগ, ওই সংবাদপত্র কোনও খোঁজ খবর না নিয়েই, প্রমাণ ছাড়া একটি সংবাদে তাঁকে ‘জমি মাফিয়া’ বলে উল্লেখ করেছেন। এতে সমাজের তাঁর মান সম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে বলে দাবি। পাল্টা তাই ওই সংবাদপত্রকে গালিগালাজ করতে চান ব্যক্তি। এলাকায় মাইক বাজিয়ে জোর গলায় গালি দিতে চান ওই সংবাদ মাধ্যমকে। এমটাই দাবি করে তিনি চিঠি দিয়েছেন এসডিএমকে। এমন কী গালিগালাজের পর পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে আইনমাফিক ব্যবস্থাও নিতে পারে, তাতে তার কোনও সমস্যা নেই বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন ওই ব্যক্তি।

সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট তথা এসডিএম-কে চিঠি দিয়েছেন প্রতীক সিনহা। চিঠিতে তিনি সংবাদ পত্রের অফিসের বাইরে মাইক বাজিয়ে দুই ঘণ্টা গালিগালাজের অনুমতি চেয়েছেন। নির্দিষ্ট সংবাদ পত্রের একটি প্রকাশিত খবর নিয়েই মূলত গন্ডগোলের সূত্রপাত। ওই খবরেপ্রতীককে ‘জমি মাফিয়া’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যক্তির দাবি, সংবাদপত্রের এই দাবি সম্পূর্ণ অসত্য। কোনও রকম খোঁজ না নিয়েই তাঁর প্রতি এই তকমা দেওয়ায় সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে। মানহানির অভিযোগে সংবাদপত্রকে নোটিশ পাঠিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন প্রতীক। তবে তারপরেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এবার তাই প্রকাশ্যে ওই সংবাদপত্রকে গালি দেওয়ার জন্য অনুমতি চেয়েছেন প্রতীক। চিঠিতে প্রতীকের অনুরোধ, এসডিএম তাঁকে এই অনুমতি দিলে তিনি কৃতজ্ঞ থাকবেন। ১১ জানুয়ারি এসডিএম-কে চিঠি দেন প্রতীক।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে ৯ জানুয়ারি তাঁর জমিতে একটি বুলডোজার চালানো হয় কোনও কারণ ছাড়াই। তাঁর ওই জমিটি চিলবিলার রঞ্জিতপুরে অবস্থিত। এই ঘটনার পর একটি সংবাদপত্র সংস্থা কোনও কিছু না জেনে শুনেই তাঁকে ‘জমি মাফিয়া’ বলে উল্লেখ করে তাদের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতীকের অভিযোগ, ওই সংবাদপত্র কোনও প্রমাণ ছাড়াই এমন দাবি করেছে। এতে তাঁর সমাজে মানহানি হয়েছে। চিঠিতে প্রতীক বলেছেন, ‘ওই প্রতিবেদনটির বিরোধিতা করে আমি ১৫ জানুয়ারি বেলা ১২টায় ওই সংবাদপত্রের ব্যুরো প্রধান এবং প্রতিবেদককে দুই ঘন্টার জন্য গালাগালি করার অনুমতি চাই।’

চিঠিতে প্রতীক লিখেছেন, অনুগ্রহ করে ১৫ জানুয়ারি ২০২৪-এ বেলা ১২টার সময় ওই সংবাদপত্র অফিসের সামনে গালিগালাজের সুযোগ দেওয়া হোক। এর জন্য ওই সংবাদপত্র অফিসের সামনে একটি মাইক লাগানোর অনুমতিও চাওয়া হয়েছে। দুই ঘণ্টা ধরে ব্যুরো প্রধান ও জেলা রিপোর্টারকে গালাগালি করতে চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, শুধুমাত্র মৌখিক ভাবে গালিগালাজই দেওয়া হবে। কেউ জুতোও ছুঁড়বে না, হুমকিও দেবে না। গালিগালাজের পর তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে পুলিশ, এমনটাও উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে।

প্রতীকের দাবি, অসত্য খবর প্রকাশের জন্য তিনি ওই সংবাদ মাধ্যমে মানহানির নোটিশও পাঠিয়েছিলেন। তবে পাল্টা সংবাদ মাধ্যমের তরফে ক্ষমা চাওয়া হয়নি তাঁর কাছে। সেই কারণেই এসডিএম-কে চিঠি দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, এভাবেই একজন সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ জানাতে পারে। প্রতীক জানিয়েছেন, এর পরেও যদি ওই সংবাদপত্র সংস্থা ক্ষমা প্রার্থনা না করে তাহলে মানহানির মামলা দায়ের করবেন তিনি। তবে এখনও পর্যন্ত এনিয়ে পুলিশ বা এসডিএমের তরফে কোনও বক্তব্য মেলেনি।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *