বাবন ধুঁয়া, ১৩.০১.২৪ সময়ঃ ০৪.০১
দিন দর্পণ ডিজিটাল ডেস্কঃ নতুন বছর শুরুতেই নয়া পদক্ষেপ নিল অসম সরকার। উত্তর-পূর্বের রাজ্যটিতে অভিন্ন নাগরিক বিধি বা ইউসিসি চালুর সিদ্ধান্তের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তবে, এর আওতা থেকে আদিবাসীদের বাইরে রাখা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। উত্তরাখণ্ড এবং গুজরাটের পর তৃতীয় রাজ্য হিসেবে অসমে চালু হতে চলেছে এই বিধি। বৃহস্পতিবার গুয়াহাটিতে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় অসম মুখ্যমন্ত্রী অভিন্ন নাগরিক বিধি বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছেন। তবে অসমের এই মডেলটি উত্তরাখণ্ড এবং গুজরাটের থেকে আলাদা বলে দাবি করেছেন তিনি। বিজেপি শাসিত দুই রাজ্যের বিলটি দেখার পর অসমের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নতুন সংযোজন করা হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে এই বিধিতে অসমের উপজাতি সম্প্রদায়কে যে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
এদিকে, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কড়া নীতি নিয়েছে অসম সরকার। দুয়ের বেশি সন্তান থাকলে সরকারি চাকরি মিলবে না। এ বার অসমের গ্রামাঞ্চলে মহিলাদের ক্ষমতায়নের জন্য যে নতুন প্রকল্প আনা হয়েছে, তাতেও শর্ত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তিনের বেশি সন্তান থাকলে ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা উদ্যমিতা অভিযান’ প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে না। আর আদিবাসী এবং জনজাতি মহিলাদের যদি চারের বেশি সন্তান থাকে, সে ক্ষেত্রে তাঁদেরও এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না বলে জানিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী।
এই বিধি লাগু করা নিয়ে জনগণের মতামত নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এর জন্য ২ থেকে ৩ মাস সময় লাগতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিলের খসড়া খুব শীঘ্রই অসম বিধানসভায় পেশ করা হবে। বিধিটি নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে, সেক্ষেত্রে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন।
গত বছর জুন মাসে বিজেপির বুথ কর্মীদের এক সভায় এই বিধি লাগু করা নিয়ে সওয়াল করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিধি চালু করার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য রাজ্যগুলির প্রতি জানিয়েছিলেন আবেদন। প্রধানমন্ত্রীর এই সওয়ালের পরেই উত্তর-ভারতের কয়েকটি রাজ্য থেকে করা হয়েছিল প্রতিবাদ।
এটি চালু হলে, উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের স্বার্থ উপেক্ষিত হবে বলে অভিযোগ করা হয়েছিল। নাগাল্যান্ড সরকারের একটি প্রতিনিধি দল এই বিধি চালু না করার দাবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছিল। তবে, সেই সময় উপজাতিতে স্বার্থ সুরক্ষিত করা হবে বলে নাগাল্যান্ড সরকারের প্রতিনিধি দলকে আস্বস্ত করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে অসমে জনসংখ্যার ১২.৪৫ শতাংশ হচ্ছে উপজাতি। তিনটি স্বায়ত্তশাসিত আঞ্চলিক পরিষদ এবং উপজাতি সম্প্রদায়ের জন্য ৬টি স্বায়ত্তশাসিত কাউন্সিল রয়েছে। অসমের উপজাতিদের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংßৃñতির উন্নয়নের জন্য স্বায়ত্তশাসিত পরিষদ এবং কাউন্সিল গঠন করা হয়েছিল।
সম্প্রতি লোকসভা ভোটের আগে সিএএ চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তারই মধ্যে বিজেপি শাসিত তিন রাজ্যে চালুর সিদ্ধান্ত, যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
