গোপাল সুন্দর বিশ্বাস, ১২.০১.২৪ সময়- ০১.৩৩
দিন দর্পণ ডিজিটাল ডেস্কঃ কয়েক বছর ধরে শীতকালে পরিযায়ী পাখিরা আড্ডা জমাচ্ছিলো নবদ্বীপের চুপির চড়ে। আর পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনাকে কেন্দ্র করে কিছু মানুষ রুজি-রুটির ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারাচ্ছে চুপি। নবদ্বীপের উত্তর প্রান্তে রয়েছে ছাড়াগঙ্গার তীর। সেখানেই শেষ হয়েছে নবদ্বীপ পুর এলাকা। নদীর অপর পারে নিদয়া, ইদ্রাকপুর আর মায়াপুরের একাংশ। এই দুই পাড়ের মাঝে বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে গঙ্গার পরিত্যক্ত খাত। কচুরিপানা আর নলখাগড়ার পাশাপাশি রয়েছে প্রচুর মাছ। জনসমাগমহীন এই চরের খোঁজ পেয়েছে ভিন্দেশি পাখির দল। চেনা জায়গা থেকে অল্প দূরে বাঁক নিয়েছে নদী। সেখানেই গড়েছে নতুন বাসা। কিন্তু ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এই পাখিরালয়। তার কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ইদ্রাকপুরে তৈরি বাঁধ। এখানকার জমা জলে পাট পচানো হয়, সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। সেই জল বাঁধ দেওয়ার ফলে সরতে পারে না। ফলে পরিযায়ী পাখিরাও আর তাঁদের খাবার খুজে পাচ্ছে না। গন্ধে তারাও আর আসছে না। এবার এই বাঁধ পরিদর্শনে আসেন জেলার উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা। ফেব্রুয়ারির মধ্যে রিপোর্ট তৈরী করে জমা দেওয়া হবে। যদিও এলাকাবাসীর দাবি মেনেই তৈরি হয়েছিলো এই বাঁধ। অসপ্রে, রুডি, শেলডাক, স্মল প্রাটিনকোল, রিভার ল্যাপ উইং, গ্রে হেরন, পার্পল হেরন, রেড ক্রেস্টেড পোচার্ড, গ্রিন বি ইটার। সহ আরও নানা প্রজাতির পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনা শুরু হতো শীত পড়তেই। লেই, মধ্য ও উত্তর এশিয়া, ইউরোপ, তিব্বত, সাইবেরিয়া থেকে পরিযায়ীরা আসতো। নভেম্বরের শেষ বা ডিসেম্বরের গোড়া থেকেই এদের আসা শুরু হয়ে যেত। এই পাখিদের আসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠল পাখিরালয়। পাখি দেখার জন্য তৈরি হল ওয়াচ টাওয়ার, বসার জায়গা, ছোট ছোট ডিঙি নৌকা করেও পাখি দেখা ও ছবি তোলার ব্যবস্থা করা হল। এসব দেখে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায় শোনা গিয়েছিলো চুপিকে একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার। তবে এসবের ওপর জমে গেলো কালো মেঘ। এখন এই বাঁধ ভেঙে সেতু তৈরির কথা ভাবা হচ্ছে, সেটা আদৌ কতটা কার্যকরী হবে, তা জানা নেই কারোর। হলেই বা কবে হবে সেটাও জানে না কেউ। তাহলে কি নষ্ট হয়ে যাবে চুপি? রুজি রুটি কি বন্ধ হয়ে যাবে ? সেখানকার মানুষদের এই প্রশ্নটাই এখন ঘোরা ফে্রা করছে।
