বাবন ধুঁয়া, ১১.০১.২৪ সময়ঃ ২.৪০
দিন দর্পণ ডিজিটাল ডেস্কঃ রাম মন্দির উদ্বোধনে হাজির থাকবেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা তথা রাম মন্দির গড়ার আন্দোলনের অন্যতম সারথি লালকৃষ্ণ আদবানী। একসময় দেশে হিন্দুত্বের আবেগে সুড়সুড়ি তিনি রামরথও বের করে ছিলেন। একদা হিন্দুত্বের পোস্টার বয় ও বিজেপির লৌহ মানব বলে পরিচিত লালকৃষ্ণ আদবানী বর্তমানে নুব্জ বয়সের ভারে। সহকারী ছাড়া তিনি চলা ফেরা করতে পারেন না। তবে সূত্রের খবর, সেই অশক্ত শরীরেই আগামী ২২ জানুয়ারি রাম মন্দিরের উদ্বোদনে তিনি হাজির থাকবেন। সাক্ষী থাকবেন রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠানে। বুধবার একথা জানিয়েছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আন্তর্জাতিক কার্যকরী সভাপতি অলোক কুমার। অলোক কুমার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘যেহেতু অসুস্থ শরীরেই অযোধ্যায় যাবেন লালকৃষ্ণ আদবানী তাই তাঁর স্বাস্থ্যের দিকে বাড়তি নজর থাকবে। তাঁর চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সব পরিষেবা প্রস্তুত রাখা হবে।’ রাম মন্দির আন্দোলনের আর এক সৈনিক তথা বিজেপির প্রবীণ নেতা মুরলীমোহর যোশী রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কিনা সে সম্বন্ধে এখনও কিছু জানাননি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আন্তর্জাতিক কার্যকরী সভাপতি। তিন দশক আগে রামমন্দির আন্দোলনে সঙ্ঘ পরিবারের প্রধান ‘মুখ’ ছিলেন আডবাণী। তাঁর রামরথ যাত্রায় ভর করে হিন্দি বলয়ে চমকপ্রদ উত্থান হয়েছিল বিজেপির। কিন্তু আগামী ২২ জানুয়ারি আযোধ্যার ‘রামজন্মভূমিতে’ মন্দিরের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তাঁকে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের গড়া শ্রী রামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রধান চম্পত রাই ডিসেম্বরে জানিয়েছিলেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হলেও বয়স এবং স্বাস্থ্যের কারণে তাঁকে অযোধ্যায় না যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের সম্পাদক চম্পত রাই রাম মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকে দূর থাকতে লালকৃষ্ণ আদবানী ও মুরলী মনোহর যোশীর মতো দুই বর্ষীয়ান নেতাকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তাঁর এই আচরণে বেজায় চটে গিয়েছিলেন আরএসএস ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের শীর্ষ নেতৃত্বরা। রাম মন্দির আন্দোলনের দুই সেনানির সঙ্গে তাঁরা এমন আচরণ মেনে নিতে পারেননি। চম্পত রাইয়ের এমন মন্তব্যের ৪৮ ঘণ্টা পরেই বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতৃত্ব আদবানির বাড়িতে পৌঁছন। বিজেপির প্রবীণ নেতার হাতে তাঁরা আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন। আদবানীর সঙ্গে দেখা করে তাঁরা দাবি করেছেন, রাম মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে সম্মত হয়েছেন তিনি।আডবাণীর পাশাপাশি, বিজেপির আর এক প্রাক্তন সভাপতি তথা রাম জন্মভূমি আন্দোলনে নেতা মুরলীমনোহর জোশীকেও একই ‘পরামর্শ’ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন চম্পত। তিনি বলেছিলেন, ‘‘দু’জনেই পরিবারের প্রবীণ। তাঁদের বয়স বিবেচনা করেই না আসার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল, যা দু’জনেই মেনে নিয়েছেন।’’ কিন্তু চম্পতের সেই দাবি, কার্যত এদিন খারিজ করে দিলেন ভিএইচপি নেতা অলোক। প্রসঙ্গত, রাম জন্মভূমি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন লালকৃষ্ণ আদবানী। দীর্ঘ আন্দোলন, আইনি লড়াইয়ের পর সুপ্রিম কোর্ট অবশেষে রাম মন্দির নির্মাণের অনুমতি দেয়। ২০২০ সালের ৫ অগাস্ট মন্দিরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যদিও সেই সময় থেকে প্রচারের আলোর ছিলেন না বিজেপির এই প্রবীণ নেতা। রাম মন্দির উদ্বোধন দিন তিনি থাকবেন কিনা সেই নিয়েও যথেষ্ট সংশয় ছিল। তবে বুধবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এক নেতা জানিয়েছেন, শারীরিক অসুস্থতা থাকা সত্ত্বেও আগামী ২২ জানুয়ারি রাম মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন ৯৬ বছরের বিজেপি নেতা। প্রসঙ্গত, ২২ জানুয়ারির অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের সনিয়া গান্ধি, মল্লিকার্জুন খাড়গে, অধীর চৌধুরীদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও তাঁরা অযোধ্যা যাবেন না বলে বুধবার দলের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
