বাবন ধুঁয়া, ০৬.০১.২৪ সময়ঃ ৫.২৬
দিন দর্পণ ডিজিটাল ডেস্কঃ কোভিডের সময় ভারত সারা বিশ্বকে ওষুধ সরবরাহ করে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে। তারা সুবাদে ভারত বিশ্বের কাছে ঔষধালয় বলে পরিগনিত হয়েছে। শুধু তাই নয় অল্পদামে ভারতে তৈরি ওষুধের চাহিদা বিশ্বব্যাপি। কিন্তু এই প্রশংসার মাঝেই গত কয়েক বছরে ভারতে তৈরি ওষুধের বিশেষত শিশুদের কাশির সিরাপের জেরে বিদেশে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে ওষুধের মান বাড়াতে শনিবার কড়া নির্দেশিকা আনল কেন্দ্র। নতুন বছরে ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলোর জন্য নয়া উৎপাদন মানের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে করেছে সরকারের বিশেষজ্ঞ কমিটি। সেভাবেই ওষুধ প্রস্তুত করতে হবে কোম্পানিগুলোকে।
২০২২ থেকেই বিদেশে একাধিক মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত হয়েছে ভারতের ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বদনাম হয়েছে ভারতের। ৫০ বিলিয়ন ডলারের সেই বাজারের ভাবমূর্তি ফেরাতে কড়া সিদ্ধান্ত নিল মোদি সরকার। কেন্দ্রের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রস্তুতকারী সংস্থাকেই পণ্যের গুণমানের দায়িত্ব নিতে হবে। সুরক্ষা এবং কার্যকারিতার সমন্বয়ে জোর দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রের তরফে বলা হয়েছে, উপাদান মানের পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফলাফল পাওয়ার পরেই সেই পণ্য ব্যবহার করা যাবে। প্রয়োজনে একটি পণ্যকে বারবার যাচাই করা হতে পারে। গত আগস্টে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের এক রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৬২টি ওষুধ কারখানার পরিদর্শনে দেখা গিয়েছে ওষুধ তৈরির কাঁচামাল পরীক্ষাই হয়নি। এছাড়াও উল্লেখ করা হয়েছিল, ভারতের ৮,৫০০টি ছোট ওষুধ কারখানার মধ্যে এক চতুর্থাংশেরও কম বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) নিয়ম মেনে ওষুধ উৎপাদন করে। যা রীতিমতো উদ্বেগজনক।
শনিবারের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বড় ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে কেন্দ্রের নির্দেশ মতো মান উন্নয়নে ব্যবস্থা নেবে। অন্যদিকে ছোট সংস্থাগুলিকে তা করতে হবে ১২ মাসের মধ্যে। উল্লেখ্য , মাঝে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দাবি করে, জাম্বিয়া, উজবেকিস্তান এবং ক্যামেরুনে কমপক্ষে ১৪১ শিশুর মৃত্যুর কারণ ভারতে তৈরি কাশির সিরাপ। এরফলে কয়েকটি দেশ ভারত থেকে কাশির সিরাপ আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
