দিন দর্পণ, কিশোরীদের যৌনতা সংক্রান্ত একটি মামলায় সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর রায় দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। ২ মিনিটের আনন্দের পরিবর্তে যৌন ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত বলে জানিয়েছিল আদালত। হাইকোর্টের এই রায়ে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। এরপরেই সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা হয়েছিল স্বতঃপ্রণোদিত মামলা। সেই মামলায় হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলল শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি অভয় এসা ওকা এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভূয়ানের বেঞ্চে ছিল বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানি। ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ, জনমানসে ভূল বার্তা দেওয়া হয়েছে। মহিলাদের যৌন ইচ্ছা নিয়ন্ত্রণে কোনও আদালত এই ধরনের নির্দেশ দিতে পারে না বলে জানিয়েছেন বিচারপতিরা। সেই সঙ্গে মামলার রায় দিতে গিয়ে হাইকোর্ট যেভাবে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৮২ ধারাকে ব্যবহার করেছে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালের ডিভিশন বেঞ্চ।
বিচারপতি অভয় এসা ওকা এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভূয়ানের বেঞ্চ আরও জানিয়েছে, নাবালিকার আবেদনের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। বিচারপতিরা তাঁদের ব্যক্তিগত মতামত কখনই জানাতে পারেন না বলে জানিয়েছেন। কলকাত হাইকোর্টের রায়ের প্রতিটি অনুচ্ছেদ সমস্যাযুক্ত বলেও জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।
প্রসঙ্গত, এক কিশোরীর সঙ্গে ‘সম্পর্ক’ ছিল এক যুবকের। সম্পর্কে থাকাকালীন ওই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে যুবকের বিরুদ্ধে। গত অক্টোবরে পকসো আইনে ২০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ওই যুবককে বেকসুর খালাস করে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি চিত্তরঞ্জন দাস এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, কিশোরীদের নিজের শরীরে অধিকার, সম্মান এবং নিজের মূল্য রক্ষা করতে হবে। যৌন উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, কারণ দু’মিনিটের সুখের জন্য সেই নিয়ন্ত্রণ হারালে সে-ই সমাজের চোখে ‘ব্যর্থ’ হবে। নিজের গোপনীয়তা এবং শরীরের অধিকার নিজেকেই রক্ষা করতে হবে। কিশোরদেরও কিছু পরামর্শ দেয় আদালত। জানিয়েছে, কিশোরী এবং মহিলাদের যে কর্তব্যের কথা হাই কোর্ট জানিয়েছে, তাকে সম্মান করতে হবে। এক জন মহিলা, তাঁর আত্মসম্মান, তাঁরû মর্যাদা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, শারীরিক অধিকারকে সম্মান করতে হবে কিশোরদের।
সাময়িক সুখের জন্য সমাজের চোখে গুরুত্ব হারাবে বলেও পর্যবেক্ষণে জানানো হয়েছিল। এর পরেই সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা হয়েছিল স্বতঃপ্রণোদিত মামলা। হাইকোর্টের এই রায় নিয়েই প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। সেই সঙ্গে সংবিধানের ২১ নম্বর ধারায় যে অধিকার দেওয়া হয়েছে, তাও লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিচারপতিরা।
সুপ্রিম রায়কে মান্যতা দিয়েছে রাজ্য সরকারও। রাজ্যের পক্ষ থেকে সওয়াল করেছেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট হুজেফা আহমাদি। মামলাটি সুষ্টভাবে সমাধানের পক্ষে সওয়াল করেছেন সরকারি আইনজীবী। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১২ জানুয়ারি। সাধারণত, ১৮ বছরের নীচে কেউ নির্যাতিত হলে তা পকসো আইনের অধীনে পড়ে। সেই বয়স কমিয়ে ১৬ করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা হয়েছে একটি মামলা।
