SAHI IDGAH MOAQUE- শাহী ঈদগাহ মসজিদ চত্ত্বরকে শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি ঘোষণার আর্জি খারিজ


দিন দর্পণ, মথুরার শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি মামলায় সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেল হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি। শাহি ইদগাহ মসজিদ স্থানটিকে কৃষ্ণ জন্মভূমি হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন গত অক্টোবর মাসে খারিজ করে দিয়েছিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা হয়েছিল মামলা। হাইকোর্টের রায়ে হস্তক্ষেপ করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল শীর্ষ আদালত।

মথুরার শাহি ইদগাহ মসজিদ স্থানটিকে শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি হিসাবে স্বীকৃতি দিতে এলাহাবাদ হাইকোর্ট অস্বীকার করলে, রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে দ্বারস্থ হয়েছিলেন আইনজীবী মহেক মহেশ্বরী। শুক্রবার সেই মামলার শুনানি হয় বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের বেঞ্চে।

সওয়াল জবাব শেষে হাইকোর্টের রায়ের উপর কোনও হস্তক্ষেপ করা হবে না স্পষ্ট জানিয়ে দেয় ডিভিশন বেঞ্চ। শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণে মথুরার শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি মামলায় হিন্দু সংগঠনগুলিকে চাপে ফেলল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।

মথুরার শ্রীকৃষ্ণভূমি মামলায় দায়ের করা পিটিশনে আইনজীবী মহেক মহেশ্বরীর দাবি ছিল, প্রার্থনা আইন, ১৯৯১-এর ধারার ২, ৩ এবং ৪-কে অসাংবিধানিক ঘোষণা করতে হবে। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, ১৯৯১ সালের আইনের দ্বারা আরোপিত বাধা শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি মামলায় প্রয়োজ্য হবে না। যে স্থানে মসজিদ গড়ে উঠেছে, তা শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমির অংশ বলে দাবি করেছিলেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালে। মথুরায় শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি নিয়ে একটি জনস্বার্থ মামলা এলাহাবাদ হাইকোর্টে দায়ের করেছিলেন আইনজীবী মহেক মাহেশ্বরী। তাঁর দাবি ছিল, বর্তমানে মথুরায় শাহি ইদগাহ মসজিদটি যে স্থানে রয়েছে, তা শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমির অংশ। এ ব্যাপারে একটি তথ্যও তুলে ধরেছিলেন।

তাঁর মতে, মসজিদটি যে শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমির অংশে গড়ে উঠেছে, তা রামায়ণ কাল থেকে প্রচলিত ধারণা। ইসলাম ভারতে এসেছে মাত্র ১ হাজার ৫০০ বছর আগে। ভূতত্ব বিভাগকে দিয়ে মসজিদের সমীক্ষা চালানোর পাশাপাশি ওই জমি হিন্দুদের কাছে হস্তান্তরের আবেদন করেছিলেন ওই আইনজীবী।

অবশ্য, গত অক্টোবর মাসে সেই মামলায় রায় দিতে গিয়ে আইজীবী মহেক মহেশ্বরীর আর্জি খারিজ করে দেয় এলাবাদ হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। এরপরেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে দ্বারস্থ হয়েছিলেন মহেশ্বরী। তবে, মথুরার শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি মামলায় মসজিদের ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষার জন্য হিন্দু পক্ষের আর্জি মঞ্জুর করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

প্রসঙ্গত, গত ডিসেম্বরে এলাহাবাদ হাই কোর্ট শাহী ইদগাহে সার্ভের আর্জিতে সাড়া দেয়। জ্ঞানবাপীর পর মথুরার শাহী ইদগাহ মসজিদে এই সার্ভে চালানো হবে। কী নিয়ে এই বিতর্ক? আসলে আধ্যাত্মিক শহর মথুরায় রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রাচীন মন্দির। হিন্দুদের বিশ্বাস, ওই জায়গাটি শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থান। সেই মন্দির চত্বরেই রয়েছে শাহী ইদগাহ মসজিদ। ইতিহাসবিদদের একাংশের দাবি, প্রাচীন কেশবনাথ মন্দির ভেঙেই মসজিদটি তৈরি করেন ঔরঙ্গজেব। ১৯৩৫ সালে ওই মন্দির চত্বরের মালিকানা মথুরার রাজার হাতে সঁপে দেয় এলাহাবাদ হাই কোর্ট। পর্যায়ক্রমে সেই সত্ব বর্তায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ঘনিষ্ঠ শ্রী কৃষ্ণভূমি ট্রাস্টের হাতে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দুই ধর্মের মানুষের মধ্যে তৈরি হয় সংঘাত। অবশেষে ১৯৬৮ সালে এক চুক্তির মাধ্যমে জমির মালিকানা হিন্দুদের হাতে থাকলেও মসজিদটির রক্ষণাবেক্ষণ করার অধিকার পায় মুসলিম পক্ষ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *