দিন দর্পণ, দেশের ১৮তম লোকসভা নির্বাচন ঘোষণার এখনও হিসাব মতো মাস দু’য়েক বাকি। তবে এখন থেকে চূড়ান্ত পর্বের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আগামী রবিবার থেকেই রাজ্য সফর শুরু করছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী সপ্তাহে তামিলনাড়ু এবং অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে শুরু হবে কমিশনের রাজ্যওয়াড়ী সফর।
লোকসভা ভোট এগিয়ে আনতে পারে বিজেপি। আগেই এ রকম আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের মুখেও একই ‘আশঙ্কা’র কথা শোনা গিয়েছে। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বও দলীয় বৈঠকে সম্প্রতি একই আশঙ্কার কথা শুনিয়েছে। সেই জল্পনার মধ্যেই লোকসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। যদিও কমিশনের এই সফর নিতান্তই রুটিন সফর। এর সঙ্গে ভোট এগিয়ে আনার কোনও সম্পর্ক নেই।
অবশ্য রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা সদ্য সমাপ্ত পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে পদ্ম শিবিরের ১০ জন বর্তমান সাংসদ হয় বিধায়ক হয়েছেন বা মন্ত্রী পদে শপথ গ্রহন করেছেন। ফলে খালি হয়ে যাওয়া সেই লোকসভা কেন্দ্রগুলিতে উপ-নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাই বিজেপি চাইছে উপ-নির্বাচনের পরিবর্তে সেগুলিতে একেবারে লোকসভার নির্বাচন করতে। কারণ, হিসেবমতো লোকসভা ভোটের আর বেশি বাকি নেই। এরফলে খালি হওয়া আসনগুলিতে প্রার্থী মনোনয়নে যেমন সময় পাওয়া যাবে, তেমনই সেখানকার মানুষের কাছ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী সম্পর্কে আভাস মিলবে।
তাই সময়মতো ভোট করানোর জন্যই এখন থেকে প্রস্তুতি শুরু করা জরুরি। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছর ১৬ মে। তার আগেই শেষ করতে হবে নির্বাচন প্রক্রিয়া। সব ঠিক থাকলে এপ্রিল থেকে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। সুতরাং হাতে আর বেশি সময়ও নেই। হিসাব মতো মাস দুয়েক বাদেই ভোট ঘোষণা হওয়ার কথা। তাই এখন থেকেই প্রস্তুতিতে নামছে কমিশন।
কমিশন সূত্রের খবর, আগামী ৭ থেকে ১০ জানুয়ারি তামিলনাড়ু এবং অন্ধ্রপ্রদেশে সফর করবে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমার এবং দুই নির্বাচন কমিশনার অনুপচন্দ্র পাণ্ডে এবং অরুণ গোয়েল এর পর একে একে যাবেন অন্য রাজ্যগুলিতেও। সব রাজ্যের স্থানীয় আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করবেন তাঁরা। এরপর রাজ্যে রাজ্যে শুরু হয়ে যাবে ভোটের চূড়ান্ত প্রস্তুতি।
তামিলনাড়ু এবং অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে ভোটের প্রস্তুতির খতিয়ান নেবে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং দুই নির্বাচন কমিশনার বৈঠক করতে পারেন সংশ্লিষ্ট দুই রাজ্যের জেলাশাসক এবং জেলা পুলিশ সুপারদের সঙ্গেও। পাশাপাশি, বিভিন্ন স্বীকৃত জাতীয় ও রাজ্য স্তরের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে কমিশনের তিন শীর্ষ আধিকারিক আলোচনা করতে পারেন বলে সূত্রের খবর।
