নিজস্ব প্রতিবেদন: গত বছর রঞ্জি অভিযান যেখানে শেষ করেছিলেন, চলতি মরসুমে রঞ্জির প্রথম ম্যাচেই একই দাপটে দেখা গেল বাংলার অভিজ্ঞ ব্যাটার অনুষ্টুপ মজুমদারকে। তাঁর শতরান এবং রঞ্জি অভিষেকে ব্যাট হাতে সৌরভের ৯৬ রানের ইনিংসে ভর করে অন্ধ্রপ্রদেশের বিরুদ্ধে প্রথম দিনের শেষে বাংলা ৪ উইকেট হারিয়ে ২৮৯ রান করেছে।
বাংলার ব্যাটিংয়ের ‘ক্রাইসিস ম্যান’ অনুষ্টুপ চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ১৩৯ বলে ১৫টি চার এবং দুটো ছয়ের সাহায্যে ১২৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। এটা ছিল তাঁর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৪তম শতরান।
অনুষ্টুপ ছাড়া প্রথম দিন রান করলেন রঞ্জিতে অভিষেক করা সৌরভ পাল। বাংলার জার্সি গায়ে প্রথমবার বাইশ গজে নেমেই নিজের প্রতিভা তুলে ধরলেন বাঁহাতি ব্যাটার। তবে লড়াকু ব্যাটিং করলেও মাত্র চার রানের জন্য শতরান হাতছাড়া করলেন ২৪ বছরের তরুণ।
এক সময় ওপেনারই ছিলেন। অনূর্ধ্ব ১৯ বাংলার হয়ে দ্বি-শতরান করেছিলেন। কাস্টমসের হয়ে মিডল অর্ডারেই খেলতেন হাওড়ার ছেলে।
সৌরভের উত্থান দুটো স্বস্তি নিশ্চিত ভাবে দিচ্ছে বাংলাকে। মনোজ তিওয়ারির টিমে এতদিন ভিন রাজ্যের ছেলেদেরই ভিড় বেশি ছিল। সৌরভ পাল ও শ্রেয়ন্স ঘোষের একসঙ্গে অভিষেক হল। শ্রেয়ন্স ১১ করে ফিরে গেলেও সৌরভ ব্যাট হাতে পড়ে রইলেনক্রিজে। সৌরভের ইনিংসে ধৈর্য অনেক বেশি। ২৩২ বল খেলে ৯৬ করলেন। মাত্র ৪ রানের জন্য অভিষেকেই শতরান হল না সৌরভের। ১৮ রানে আউট হন সুদীপ ঘরামি।
বিশাখাপত্তনমে হনুমা বিহারির নেতৃত্বে অন্ধপ্রদেশের বিরুদ্ধে টসে জিতে বাংলার অধিনায়ক মনোজ আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন। লাঞ্চের আগে ৬২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বাংলা তখন বেশ চাপে। বরাবরের মতো এদিনও চারে ব্যাট করতে নেমে অনুষ্টুপ শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং বেছে নেন। অন্যদিকে সৌরভ একটা দিক আগলে নিজের ইনিংস গড়ছিলেন। ফলে বিপক্ষের উপর চাপ বাড়িয়ে তৃতীয় উইকেটে ২৬১ বলে ১৮৯ রান যোগ করেন দু’জন। অবশ্য এই জুটিতে দুই ব্যাটারের রান করার গতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
বাংলার অধিনায়ক মনোজ তিওয়ারি ১৫ রানে ক্রিজে রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়লেন নাইট ওয়াচম্যান মহম্মদ কাইফ। মহম্মদ সামির ভাইয়েও যে এই ম্যাচেই অভিষেক ঘটল।
অন্ধ্রপ্রদেশের হয়ে ললিত মোহন দুটো, নীতিশ রেড্ডি এবং শোয়েব একটি করে উইকেট নেন।
