বাবন ধুঁয়া, ০২.০১.২৪ সময়ঃ ৬.১২
দিন দর্পণ ডিজিটাল ডেস্কঃ
কংগ্রেসে যোগ দিতে চলেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জগন মোহন রেড্ডির বোন ওয়াই এস শর্মিলা। সূত্রের খবর, হাত শিবিরে বড়সড় পদ পেতে পারেন এই নেত্রী। চলতি বছরেই বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশে। সঙ্গে রয়েছে লোকসভা ভোটও। দুই নির্বাচনকে মাথায় রেখেই অন্ধ্রে নতুন অঙ্ক তৈরি করতে চাইছে হাত শিবির।
যদিও শর্মিলার যোগদান নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানায়নি কংগ্রেস। এ ব্যাপারে মুখ খোলেননি শর্মিলাও। তবে কংগ্রেস সূত্রে খবর, কথাবার্তা পাকা হয়ে গিয়েছে। চলতি সপ্তাহেই কংগ্রেসের পতাকা হাতে নিচ্ছেন শর্মিলা। ওই সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, অন্ধ্রে শর্মিলাকে বড় সাংগঠনিক দায়িত্ব দিচ্ছে দল। কংগ্রেস শিবিরের আশা, জগন্মোহনের নেতৃত্বে অসন্তুষ্ট কর্মী-সমর্থকেরা, সে রাজ্যের শাসকদল ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি ছেড়ে শর্মিলার নেতৃত্বে কংগ্রেসে যোগ দেবেন। টিডিপি প্রধান চন্দ্রবাবু নায়ডু গ্রেফতার হওয়ার পর অন্ধ্রের রাজনীতিতে বিরোধী পরিসরে শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে কংগ্রেস। শাসকের আসনে না বসলেও শর্মিলাকে সামনে রেখে ওই বিরোধী পরিসর দখল করতে চাইছে হাত শিবির।
সদ্য তেলেঙ্গানায় প্রথমবার সরকার গড়েছে কংগ্রেস। তার পরেই প্রতিবেশী রাজ্যেও ক্ষমতা দখলের জন্য ঝাঁপিয়েছেন রাহুল গান্ধিরা। অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রীর বোন শর্মিলাকে কংগ্রেসে সই করিয়েই দক্ষিণের রাজ্যটিতে নয়া সমীকরণ তৈরির চেষ্টা চলছে। শর্মিলার পরে ওয়াই এস আর কংগ্রেস থেকে একঝ¥াক নেতাও কংগ্রেসে যোগ দেবেন বলে আশা করছে হাত শিবির। উল্লেখ্য, গত বছর তেলেঙ্গানা নির্বাচনে কংগ্রেসের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন শর্মিলা।
২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের পরেই অন্ধ্রপ্রদেশে বিধানসভা ভোট রয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে বেশ টালমাটাল অবস্থা সেরাজ্যের প্রধান বিরোধী দল তেলুগু দেশম পার্টির। সেই সুযোগেই অন্ধ্রে জমি শক্ত করতে চাইছে কংগ্রেস। নির্বাচনকে মাথায় রেখেই শর্মিলাকে গুরুত্বপূর্ণ পদও দেওয়া হবে হাত শিবিরে।
উল্লেখ্য, কংগ্রেস ছেড়েই ওয়াই এস আর কংগ্রেস পার্টি গঠন করেছিলেন অন্ধ্রের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী জগন। সেই সময়ে দলের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শর্মিলাও। ২০১২ সালে নতুন দল গঠনের পর বেশ কিছুদিন দুর্নীতির মামলায় জেল খাটেন জগন। সেই সময়ে দলের হাল ধরেছিলেন তাঁর বোনই। কিন্তু ২০২১ সালে শর্মিলা সাফ জানিয়ে দেন, দাদার সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ মিলছে না। নতুন দল গড়ে তেলেঙ্গানায় প্রচারও শুরু করেন। সে সময় স্পষ্ট জানিয়ে দেন তাঁর দল বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসকে সর্মথন করবে। তবে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসেই ফিরতে চলেছেন তিনি।
